সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যাত্রী থাকলেও দিনের বেলার বাসে খুব একটা চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে রাতের বাসে তুলনামূলকভাবে চাপ বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আর মাত্র তিনদিন বাকি থাকলেও বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সরেজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ দিনের বেলা না থাকলেও বিভিন্ন পরিবহনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রাতের বাসের প্রায় সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে। দিনের বেলায় কোনো চাপ নেই বলেও জানান তারা।
বাস কাউন্টাগুলোর ম্যানেজার ও টিকিট বিক্রেতারা আরও জানান, রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া প্রথম দিকের যাত্রীরা ট্রেন ও লঞ্চে পাড়ি দিয়েছেন। মাওয়াঘাটে দীর্ঘ যানজটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে না উঠে অনেকে ভেঙে ভেঙে অন্য পরিবহন ও লঞ্চে চলে যাচ্ছে।
অফিস-আদালতের ছুটি শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে, সেদিন থেকে ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, সায়েদাবাস বাস টার্মিনালের বাইরে ‘শ্যামলী’ পরিবহনের একটি কাউন্টারের ম্যানেজার মো. হিরণ বলেন, আজ দিনের বাসে যাত্রীর চাপ নেই। সাধারণত অন্যান্য দিনের মতো যাত্রীরা তাদের গন্তব্যের টিকিট পাচ্ছেন। কিন্তু রাতের সব বাসের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
অপরদিকে, ঢাকা-দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করা ‘হামিম’ পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান, ঈদের তিনদিন আগে এই টার্মিনালে যে ভিড় থাকার কথা, প্রকৃতপক্ষে সেই ভিড় এখানে নেই। ঈদ ছাড়া অন্যান্য দিনের মতো যাত্রী আছে।
টার্মিনালে ভিড় না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মাওয়াঘাটে যানজট থাকায় যাত্রীরা এখান থেকে সরাসরি বাসে না উঠে, লোকাল পরিবহনে মাওয়া পৌঁছে ফেরি পাড়ি দিয়ে ও লঞ্চে চলে যাচ্ছে।
ঢাকা থেকে খুলনা যাতায়াত করা ‘বনফুল’ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা নিজাম সরদারও নজরুলের মতো একই মতামত ব্যক্ত করেন।
সিলেটের উদ্দেশে যাতায়াত করা ‘সুম্মি’ পরিবহনের ম্যানেজার মো. মোমিনুল ও ‘আহমেদ’ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা শাহ আলম জানান, রাতে যে সব বাস ছেড়ে যাবে, সেগুলো টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত অর্ধেকের কম টিকিট বিক্রি হয়েছে। সারাদিনের মধ্যে তাদের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।
এছাড়া, টার্মিনালে সিলেট ও সুনামগঞ্জ যাতায়াত করা বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের কোনো ভিড় দেখা যায়নি।
জেআই





