ইসলাম ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় গত ১২ অক্টোবর রোববার মন্ত্রিসভা থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়। এরপর মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ ও রদবদল নিয়ে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানাগেছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়। এরপর মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণের ব্যাপারে বেশ কয়েক মাস ধরে গুঞ্জন চলছিল। গুঞ্জন চললেও বিভিন্ন কারণে মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ সম্ভব হয়নি। তবে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের পর আবারও মন্ত্রীসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের কথা ভাবছে সরকারী দল।

বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ ও রদবদল করার চিন্তা-ভাবনা করছে আওয়ামী লীগ। সেই হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান খান কামালই থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

মোহাম্মদ নাসিম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় থেকে নাসিমকে সরিয়ে নিলে, তার স্থানে স্থালাভিষিক্ত হবেন আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম। তিনিও ১৯৯৬ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের গত মন্ত্রীসভার কেউ কেউ স্থান পেতে পারেন বর্তমান মন্ত্রীসভায়। এদের মধ্যে অনেকই আলোচনায় রয়েছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এদের মধ্যে গত মন্ত্রীসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি লতিফ সিদ্দীকির স্থালাভিষিক্ত হতে পারেন। এছাড়াও সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও স্থান পেতে পারেন বর্তমান মন্ত্রীসভায়।

বিশ্বব্যাংকের দূর্নীতির দায় থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন অথবা তার স্ত্রী সাংসদ নীলুফার জাফরউল্লা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও জানাগেছে, বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ এবং পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমকে পূর্ণমন্ত্রী করা হতে পারে।

বর্তমান মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভূক্তির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঞ্চগড় থেকে নির্বাচিত সাংসদ নুরুল ইসলাম সুজন ও মহিলা সাংসদ অ্যাডভোকেট তারানা হালিম এবং সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সাংসদ ডা. হাবিব এ মিল্লাতকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এছাড়া নতুন মন্ত্রীসভায় যাদেরকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার জল্পনা-কল্পনা রয়েছে- তারা হল:- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাংসদ মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। এদিকে মন্ত্রী হওয়ার দেন-দরবারে বেশ এগিয়ে আছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি নূহ-উল-আলম লেলিন টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, মন্ত্রীসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের ব্যাপারে প্রাধনমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ জানেন না। এটা কোনদিন হবে এবং মন্ত্রীসভায় কারা স্থান পাবে এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানেন। এ ব্যাপারে আমার কোন ধারনা নেই।

এমআর/এসএইচ