পঞ্চগড় জেলা সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পঞ্চগড়ের একজন পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সাব রেজিস্ট্রারের পদ শুন্য হলে দেবীগঞ্জ উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার শংকর কুমার বর্মনকে অতিরিক্ত সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার পঞ্চগড়ে এসে দলিল সম্পাদনের কাজ করেন।
গত এক বছরের অধিক সময়ে তিনি পঞ্চগড়ে অফিস করলেও এজলাসে না বসে খাস কামরায় বসে দলিল সম্পাদন করেন। অনেক সময় ক্রেতার সুবিধাজনক স্থানে গিয়েও রেজিষ্ট্রি করে থাকেন।
জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ঘুষের আশায় খাস কামরায় বসে জমির দলিল সম্পাদন করার সময় সামান্য ছুতো ধরে দলিলে স্বাক্ষর না করে ফেলে রাখেন। পরবর্তিতে নির্ধারিত হারে টাকা নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেন।
তাদের অভিযোগ, দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায় করার জন্যই তিনি এজলাসে না বসে খাস কামরায় বসে দলিল সম্পাদন করেন। এর বাইরে দলিল লেখকদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দলিল প্রতি ৩শ থেকে ৬শ টাকা করে বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করে থাকেন। এ টাকা অফিসের প্রধান সহকারি নিয়ে থাকেন। অফিস শেষে সাব রেজিস্ট্রারসহ ভাগাভাগি করেন।
এদিকে পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের একটি মামলায় বিচারক একজন বিবাদীর বিরুদ্ধে জমি হস্তান্তর না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও সম্প্রতি ওই সাব রেজিস্ট্রার মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ২টি দলিল সম্পাদন করেছেন।
এ ছাড়াও খারিজ খতিয়ান ছাড়াও উৎকোচের বিনিময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পঞ্চগড়ের একজন পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সাব রেজিস্ট্রার পরিবার পরিজন নিয়ে রংপুরে অবস্থান করেন। সপ্তাহের ৫ দিনই তিনি রংপুর থেকে পঞ্চগড় ও দেবীগঞ্জে যাতায়াত করেন। অফিসের কাজ শেষে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া করে তিনি রংপুরে যান।
আবার সেই গাড়িতে করে পরদিন দুপুরে তিনি পঞ্চগড়ে আসেন। রংপুর থেকে পঞ্চগড়ে যাতায়াত করার কারণে প্রতি সপ্তাহে তিনি ভাড়া বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। সকাল ৯ টায় অফিস শুরু হলেও দুপুরে কর্মস্থলে আসেন।
এর ফলে ক্রেতা বিক্রেতারা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হন। অবশ্য অফিস সময়ের পরেও তিনি দলিল সম্পাদন করে থাকেন। এছাড়া জেলা রেজিস্ট্রার পঞ্চগড়ে প্রতিমাসে অফিস করেন ৩ থেকে ৫ দিন। এই কয়েকদিন তিনি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। তার থাকা খাওয়া এবং যাতায়াতের সব খরচ বহন করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সাব রেজিস্ট্রার শংকর কুমার বর্মন সপ্তাহের ৫ দিন রংপুর থেকে এসে অফিস করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার সামর্থ আছে তাই খরচ করছি। দেরীতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো নিয়ম মানিনা।
চাকরী করার পর থেকে নিজের নিয়মে চলি। দলিল প্রতি উৎকোচ আদায়সহ তার বিরুদ্ধে আনা অন্যসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সবই জানে। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে চাইলে করেন। আমার কিছুই করতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অফিসে গিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদকে পাওয়া যায়নি। তার অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে অফিসের কেউ সদুত্তর দিতে পারেনি।
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





