পুলিশে চাকরি শেষ করে যেতে পেরেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা আব্দুল মজিদ। বড় বোন ফাতেমা খাতুন নিজেও পুলিশে কর্মরত। বাবা আর বোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশপ্রেমের চেতনা বুকে নিয়ে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন জহিরুল ইসলাম তপু।

বাবা চাকরি শেষ করে বছর দেড়েক আগে জীবনের পাট চুকালেও চাকরির মাত্র ৫ বছরের মাথায় জীবনের ইতি টানতে হয়েছে পরিবারের সবার আদরের তপুকে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ মাঠ শোলাকিয়ার কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে অবেলাতেই নিভে গেলো পুলিশ পরিবারের এ কনিষ্ঠ সদস্যকে।

নিহত তপুকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের ভাটিপাড়া বালাশর গ্রামে বাবা’র কবরের পাশেই শেষ শয্যা হলো কিশোরগঞ্জ সদরের পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলামের (২৫)।

মাটির শীতল বিছানায় বৃহস্পতিবার (০৭ জুলাই) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্য আর গ্রামবাসী তপুর কবরে দিয়েছেন মুঠো মুঠো মাটি। ফেলেছেন চোখের জল।

ঈদের দিন সকালে কিশোরগঞ্জ সদরে আজিমুদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তদের হাতবোমার আঘাতে প্রাণ হারান কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম। পরে কিশোরগঞ্জ থেকে রাত ১১টায় তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি ভাটিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মর্মস্পর্শী আবেঘন পরিবেশে পরিবারের শেষ দেখার পর রাত ১২ টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। জানাজায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দণি) হারুন অর রশিদ, ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজিবসহ স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।

পরে বীরত্বের জন্য তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর স্বজন ও গ্রামবাসীর চোখের জলে তাকে শুয়ে দেয়া হয় মাটির ঘরে।

এমই