কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনভূমি বন বিভাগের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। পাহাড় কেটে মাটি পাচারের পাশাপাশি সেখানে কুড়েঘর নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেখানে বন সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাগান তৈরী করার মত কোন পরিবেশ থাকবে না বলে মনে করেছেন সচেতন মহল।
উখিয়া বন রেঞ্জের তথ্য মতে, গত ৫ বছরে ৮টি বন বিটের আওতায় ১৯ হাজার একর বনভূমিতে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব জবর দখলকারীদের তালিকা তৈরি পূর্বক উচ্ছেদের আওতায় আনার জন্য জেলা বন বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয় উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, "অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করে মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সভায় গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে টাক্সফোর্স গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। যে কারণে পাহাড় কেটে মাটি পাচার ও বনভূমি দখল অব্যাহত রয়েছে।"
সম্প্রতি ভালুকিয়া বিটের আওতাধীন চাকবৈঠা নতুন পাড়া জামে মসজিদ এলাকাঘুরে দেখা যায়, বিশালাকার পাহাড় কেটে খেলার মাঠে পরিণত করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, ফকির আহমদের ছেলে অলি আহমদের নিকট থেকে একই এলাকার মৃত আবু শামার ছেলে কবির আহমদ ৭০ হাজার টাকায় পাহাড়টির দখল ক্রয় করেছে। অলি আহমদের ছত্র ছায়ায় ২০/২২ জন শ্রমিক প্রায় সপ্তাহ ব্যাপী এ পাহাড়টি কর্তন করে রাতারাতি কুড়ে ঘর নির্মাণ করে দখলে নিয়েছে।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, দখলদার প্রবাসী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উক্ত পাহাড়ে পাকা দালান তৈরি করার জন্য নির্মাণ সামগ্রী মজুদ করেছে।
বিষয়টি জানার পর ভালুকিয়া বিট কর্মকর্তা উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। কবির আহমদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান।
এভাবে এ উপজেলার টিএনটি, ফলিয়াপাড়া, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, ডেইলপাড়া, হলদিয়ার পাতাবাড়ী, ওয়ালা বিটের জামতলী, হাজির পাড়া, দোছড়ি প্রভৃতি এলাকায় শত শত একর পাহাড় কেটে বিরাণভূমিতে পরিণত করা হলেও দেখার কেউ নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জেলা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল সরকার জানান, "লোকবল সংকটসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন পূর্বক টাক্সফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারণে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। "
জেডআই





