মাদারীপুরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসকদের অবহেলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের চৌধুরী ক্লিনিকে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রে জানা যায়, শহরের পাঠককান্দি এলাকার জাকির হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফারজানা বেগম (২৫)কে বুধবার সকাল ৯টায় ভর্তি করে চৌধুরী ক্লিনিকে। ক্লিনিকের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক খালেদা খানম রোগীর পেটের বাচ্চা মারা গেছে বলে জানান। রোগীকে অপারেশন করে মৃত বাচ্চা বের করতে হবে বলে পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরিবারের অনুমতি নিয়ে বিকেল ৫টায় অপারেশন থিয়েটারে ফারজানাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে ক্লিনিকের চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে সেখানে তুলে দেয়। এতে সন্দেহ হয় ফারজানার পরিবারের লোকজনদের। পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন ফারজানা মারা গেছেন।

অন্যদিকে রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে ক্লিনিক ও আশপাশের এলাকায়। রাত ৯টায় মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত ফারজানার বাবা আলাউদ্দিন মাতুব্বর বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। এ ঘটনার শাস্তি না হলে পরবর্তীতে এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার ‍যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চৌধুরী ক্লিনিকে একটু উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম এ