নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে সিঁধ কেটে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার জাকির হোসেন জহির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার বিকেলে তাকে সিনিয়র ২ নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সিনিয়র বিচারক নবনিতা গুহ জাকিরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার পুলিশ-পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, জাকিরের চার দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে তিনি অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আদালতে জাকির বলেন, ‘গৃহবধূ গণধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী তারই দেবর আব্দুর রব হোসেন প্রকাশ মান্না। গৃহবধূর স্বামী মান্নার সৎ ভাই। জমাজমির বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি জানান, তারা দু’জন ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছেন মো. সেলিম, হারুন-অর রশিদ ও জামাল উদ্দিন। এদের মধ্যে জামাল উদ্দিন পলাতক।

তবে, জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেননি। বাকি চারজন ধর্ষণ করেছেন। পলাতক জামালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশ-পরিদর্শক টমাস বড়ুয়া।

এদিকে, রোববার স্থানীয় নিমতলা সমিতি বাজারে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এতে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, সমিতি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলাশ চন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জনিুয়ারি রাতে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে বাড়িতে ঢুকে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণ করেন একদল দুর্বৃত্ত। পরে শনিবার মামলা হলে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২৯ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ জানান, ঘটনার রাতে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিন সন্তানসহ তাকে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন। এরপর তারা পালিয়ে যান। এদের মধ্যে তিনি জাকিরকে চিনতে পারেন।

জেড