ফাটাকেষ্ট আসছেন, তাই সকাল থেকে কানায় কানায় পূর্ণ জিরানী বাজার। মহাসড়ক থেকে শুরু করে ওভারব্রিজেও জায়গা করে নিয়েছেন উৎসুক জনতা। প্রখর রোদ মাথায় নিয়েও কাছ থেকে ফাটাকেষ্টকে দেখার ইচ্ছা সবার।

কিন্তু ফাটাকেষ্ট নামে একদম খুশি নন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাই উপস্থিত সাংবাদিকদের বললেন, ‘আমি ফাটাকেষ্ট বা নায়ক কোনোটাই নই। আমি একজন মন্ত্রী। তাই মানুষের দুর্ভোগ কাছে থেকে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু একটি মহল ফাটাকেষ্ট ও নায়ক বলে আমাকে বিদ্রূপ করার চেষ্টা করে। ফাটাকেষ্ট বা নায়করা অভিনয় করে। আমি অভিনয় করি না। প্রতিদিনই আমি রাস্তায় থাকি। এমনকি ছুটির দিনেও আমি রাস্তায় থাকি। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে বড় বড় দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা করি।’
মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের জিরানীতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ওপর নির্মিত ফুটওভারব্রিজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

যোগাযোগমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি চোখে দেখে বিশ্বাস করি। আমি হাঁটার জন্য সড়ক পরিদর্শনে যাই না। গত আড়াই বছরে সাভারে অন্তত ১০০ বার এসেছি। এতে সাভারের নবীনগর, গাজীপুরের চন্দ্রা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের চেহারা বদলে গেছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যেখানে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হতো সেখানে তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘ছোট কাজ মানুষ গণনা করতে চায় না। কিন্তু এই ছোট ছোট কাজ থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় বলেই আমি রাস্তায় থাকি। এজন্য অনেকের কাছে আমি ফাটাকেষ্ট বা নায়ক। কিন্তু দেশের জনগণ আমাকে ভালোবাসেও। এসব কথা তাদের মুখ থেকে আর শোনা যাবে না।

বিএনপির আন্দোলনের ডাক সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের অংশগ্রহণের কোনো লক্ষণ না থাকায় বিএনপির আন্দোলন অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি নেতারা জনগণকে আন্দোলনের প্রধান উপাদান বললেও তাদের আন্দোলনে জনগণ অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নয়। এজন্য বারবার আন্দোলনের ডাক দিয়েও তারা সফল হতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এবার ঈদুল ফিতরের পর তারা আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছে, হয়তো কিছুদিন পর তা বদল হয়ে চলে যাবে ঈদুল আজহার পর।’

এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ডা. এনামুর রহমান, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন ও অন্য কর্মকর্তারা।

ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই