পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বিলুপ্ত ছিটমহলে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের শের-ই-বাংলা পার্কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিলুপ্ত ছিটমহলে দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবিতে নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিট এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিলুপ্ত ছিটমহলের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন- নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের আহ্বায়ক মো. মইনুল হক, সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মফিজার রহমান, হাফিজউদ্দিন (লালমনিরহাট), আ স ম নুরুজ্জামান, মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

বক্তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় দ্রুত পাঠদান অনুমতি, মঞ্জুরি ও প্রতিষ্ঠান সমূহের দ্রুত এমপিও ভুক্তিকরণের দাবি জানান।

পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মণ্ডলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহলের অধিবাসীরা বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এরপর বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিভাবে পাঠদান অনুমতি, মঞ্জুরি, উপবৃত্তির তালিকাসহ এমপিওভুক্তি করা হয়নি।

বিলুপ্ত ছিটবাসীদের এসব দাবি মেনে নিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলায় ২৮টি, কুড়িগ্রামে ৮টি, লালমনিরহাটে ৯টি এবং নীলফামারী জেলায় ১টি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়।

এসটি