পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজের ৩ দিন পর রোববার দুপুরে ধানক্ষেত থেকে মো. সাগর মুন্সির (২২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নিহতের খালাতো ভাই মো. আজাদ মোল্লাকে (১৯) আটক করেছে।পরে আজাদের দেয়া তথ্য মতে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
রোববার দুপুরে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের দরিচর ইকর বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ধান ক্ষেতে সাগর মুন্সির (২১) লাশ পাওয়া যায়।
সাগর মোড়েলগঞ্জ উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সুতালরি গ্রামের আমজাদ মুন্সির ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে সাগর উপজেলার পাড়েরহাটের বাড়ৈখালী গ্রামে শ্বশুর নজরুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত শুক্রবার বিকালে নিখোঁজ হন তিনি।
সাগরের শ্বাশুরি ফাহিমা বেগম জানান, ৭-৮ মাস আগে সাগর ও তার খালাত ভাই চড়িচর ইকরবুনিয়া গ্রামের স্বপন সিকদারের ছেলে লাভলু সিকদার ঢাকায় একটি কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করত।
সে সময় লাভলু ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একটি গ্যাসের সিলিন্ডার চুরি করে। সাগরের কাছে কর্তৃপক্ষ সিলিন্ডারের কথা জানতে চাইলে সে সিলিন্ডারটি লাভলু চুরি করেছে বলে জানায়।
এ খবর জেনে লাভলু সাগরের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। কয়েক মাস আগেও লাভলু একবার সাগরের ওপর হামলা করেছিল।
তিনি জানান, শুক্রবার বিকালে সাগর দড়িচর ইকর বুনিয়া গ্রামে লাভলুর বাড়ি সংলগ্ন একটি দোকানে কলা বিক্রি করতে যায়। সেখান থেকে বাড়ৈখালী বাজারের দিকে যাওয়ার সময় লাভলু সাগরের ওপর হামলা চালায়।
সেখান থেকে উঠিয়ে লাভলুদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সাগর নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় শনিবার ইন্দুরকানী থানায় একটি জিডি করা হয়।
ইন্দুরকানী থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, আজাদ মোল্লার দেয়া তথ্য মোতাবেক লাভলুদের বাড়ির পেছনের ধান ক্ষেতে তিন ফুট গভীর একটি গর্তের মধ্যে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় সাগরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সাগরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আজাদ। আজাদ, লাভলু ও সাগর আপন খালাত ভাই।
এএস





