দিনাজপুরের খানসামায় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ভোটার উপস্থিতির ত্রুটিপূর্ণ হিসাব বিবরণী পরিলক্ষিত হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের পর প্রশ্নবিদ্ধ ফল প্রকাশে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় পর্যায়ে ইউপি নির্বাচনের আওতায় উপজেলার অন্যান্য ভোট কেন্দ্রের মত ভাবকী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী, সংরক্ষিত মহিলা আসন পদে ৩ প্রার্থী এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল ৩টি তালিকা প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের তালিকায় উপস্থিত ভোটার সংখ্যা ১৫৫২, অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা ৩০৯, সংরক্ষিত মহিলা আসন প্রার্থীদের তালিকায় উপস্থিত ভোটার সংখ্যা ১৫৫৮, অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা ৩০৩ এবং সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীদের তালিকায় উপস্থিত ভোটার সংখ্যা ১৫৩৬ ও অনুপস্থিত ভোটার সংখা ৩২৫ দেখানো হয়। ফলে ওই কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের ব্যবহৃত ব্যালট পেপারের গণনায় ২২টি ব্যালট পেপারের হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো: আখতার হোসেন জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অনুলিপি করে রিটার্নিং অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

অভিযোগে ওই ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভাবে ভোট গ্রহণ হলেও দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারগণ ভোট গণনার সময় দায়িত্ব অবহেলার কারণে ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে তার অপুরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে খানসামায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ওই ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে পাকেরহাট সোনালী ব্যাংক শাখার ক্যাশ অফিসার মো: আতিকুর রহমান, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার উত্তর গোয়ালডিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া পারভীন, উপজেলা ভূমি অফিস সহকারী মো: হামিদুল হক, হোসেনপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো: মামুনুর রশীদ ও একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো: রাজিউর রহমান, নলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিনয় কুমার সরকার এবং গোয়ালডিহি চান্দেরদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা: মিনার বেগম দায়িত্ব পালন করেন।

এ ব্যাপারে প্রিজাইডিং অফিসার মো: আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে সীটটা দেখতে হবে। তবে ব্যাংক চলাকালীন সময় দেখা সম্ভব নয়, পরে জানাব।

পরে রিটার্নিং অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত খানসামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: মাহমুদ হাসানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার বরাবরে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই। অভিযোগ করতে হবে নির্বাচনী ট্রাইবুনাল বরাবরে।

এমবি