চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে ইউসুফ আলী নামে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি আটকের পর পুলিশের নির্যাতনেই মারা গেছেন ইউসুফ। পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মাদকের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি চিকিৎসক।

থানায় ইউসুফের মৃত্যু হয়েছে এমন খবরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বটতলা এলাকা থেকে ইউসুফকে আটক করে পুলিশ। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টায় মারা যায় সে। পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।

এ প্রসঙ্গে নিহতের বাবা জানান, 'পুলিশে মারছে, মাইরা মুখে পলিথিন ভরে রাখছে। আপনি বটতলা হাটে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন তাহলে সবকিছু জানতে পারবেন।' ওখানকার মানুষই সব দেখেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধর ছাড়াও পিকআপ ভ্যানে তোলার সময় ইউসুফের ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, 'পিক আপের ওপর মুখ চাইপা ধইরা পিটাইছে। তারপর ইট দিয়া মাথার পিছনে বাড়ি দিছে।'

এ বিষয়ে থানার উপ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন অত্যধিক মাদকের কারণে আসামীর মৃত্যু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, তাকে পুলিশি নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে ধরার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে বিগত পাঁচ বছর যাবৎ মাদকাসক্ত সেটা তার পরিবারই বলেছে।

তবে মাদকের কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করে বলতে পারেন নি চিকিৎসক।

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিকালের দিকে একবার চিকিৎসা নিতে এসেছিলো, তখন তার অবস্থা ভালো ছিলো তাই ডাক্তার তাকে ভর্তি করেনি। এরপর সন্ধ্যা সময় আবার যখন এসেছে তখন তার অবস্থা ভালো না থাকায় ডাক্তার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। ধীরে ধীরে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে সে মারা যায়।

পুলিশের দাবি সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইউসুফকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই