তিস্তার উজানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুই শতাধিক চরে ডাকাত আতঙ্কে চরবাসীর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের অনেকেই নিরাপদে আশ্রয় নিলেও শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন চরবাসী।
তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র তিন নদীর ৬৫ হেক্টর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে দুই লক্ষাধিক পরিবারের বসবাস। যমুনায় ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে এখন তারা চরাঞ্চলের বাসিন্দা।
এসব চরাঞ্চলে রাত হলেই শুরু হয় ডাকাতদের আনাগোনা। কয়েকটি চরে হানা দিয়ে গরু ছাগল নিয়ে গেছে ডাকাতেরা। এখন একদিকে নদী ভাঙন, পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে ডাকাতের ভয়।
তিস্তার উজানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার, হরিপুর, তারাপুর, বেলকা, শ্রীপুর, চর খোর্দ্দা, ছেরি মারার চর, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের হাসধরা, নুনগোলা, কীর্তনের পাড়া, রায়দাসবাড়ি, গিদারী, মোল্লারচর, শাহিনের চর, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, গাবগাছি, কাবিলপুর, চরকালাসোনা, সন্ন্যাসীর চর, সিদাই, উজান তেওরা, রহমতপুর, মানিককর, সিংড়িয়া, গজারিয়াসহ দুই শতাধিক চরে এখন ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চরবাসীরা জানান, পানি বৃদ্ধি হলে ডাকাতি শুরু হয় তিনটি পয়েন্টে। এর মধ্যে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ থেকে গাইবান্ধায় আসার পথে চর খাটিয়ামারী ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝখানে কাশবনে প্রায় প্রতিদিন ডাকাতি হয়।
ডাকাতরা বাহাদুরাবাদ-বালাসী রুটে দিনের বেলায় চলাচলকারী যাত্রীদের মারপিট করে মোটরসাইকেলসহ মালামালা লুট করে নেয়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের কুপিয়ে আহত করে। ওই রুটে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা হলেও ডাকাতির পরিমান কমেনি।
তারা জানান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আশ্বস্ত করলেও ডাকাতি কমেনি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।
এছাড়া রৌমারী ও রাজিবপুর থেকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীপথে গাইবান্ধা আসার সময় ছেড়িমারার চর পয়েন্টে ডাকাতদের উৎপাত রয়েছে। ছেড়িমারার চর পয়েন্টে ডাকাতরা একই পদ্ধতিতে যাত্রীবাহী নৌকায় ডাকাতি করছে।
কুড়িগ্রাম, লালমনিহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ নৌ রুটে চলতি মৌসুমে অন্তত ৮০টি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতি হলেও কোনো মামলা হয় না। তবে গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানা ও সাঘাটা থানায় এ বিষয়ে কয়েকটি মামলা হয়েছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার তিনি বলেন, নৌ পুলিশের যানবাহনের চেয়ে ডাকাতদের যানবাহনের ক্ষমতা অনেক বেশি। ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গেলে পুলিশের বাহন জরুরী হয়ে পড়েছে। পুলিশের কোনো নৌযান নেই।
একটি নৌ ফাঁড়ি ছিল বালাসীঘাটে। তা দীর্ঘদিন আগে নদীতে ডুবে গেছে। সে কারণে বালাসীঘাট নৌফাঁড়িটি নদী থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এমকে





