সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার প্রতিকেজি ১০ টাকা দরে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু চাল বিক্রির প্রথম দফার প্রায় অর্ধেক সময় পার হয়ে গেলেও সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বে এখনো অনেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ শেষ হয়নি যশোরে। শেষ হয়নি হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরির কাজ।
আবার কোন কোন ইউনিয়নে নিয়োগ পেলেও ডিলাররা চাল তুলছেন না। ফলে ইতোমধ্যে কার্ড পেয়েও হতদরিদ্র মানুষ কম দামে চাল কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন জানান, যশোরের আট উপজেলার এক লাখ ৩৫ হাজার ১৩২ জন প্রতিকেজি ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি চাল পাবেন। বছরে দুই দফায় পাঁচ মাস হতদরিদ্রদের মাঝে এই চাল বিক্রয় করা হবে। প্রথম দফায় তিন মাস সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফায় মার্চ ও এপ্রিলে চাল বিক্রি করা হবে।
তবে এখন পর্যন্ত জেলার সব তালিকা তাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। বুধবার (৫ অক্টোবর) পর্যন্ত খাদ্য অফিসে এক লাখ ছয় হাজার ৪৭৯ জনের তালিকা জমা পড়েছে। সেই হিসেবে এখনো তালিকা হয়নি ২৮ হাজার ৬৫৩ জনের।’
খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ১৮ হাজার ২৯০ জনের বিপরীতে তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ১০ হাজার ২৯০ জনের। এছাড়া মনিরাপুরের ২৩ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৩৬ জনের, ঝিকরগাছায় ২২ হাজার ১৭৫ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৯৮১ জনের ও চৌগাছায় ১৪ হাজার ৯৯৭ জনের মধ্যে ১০ হাজার ৫২১ জনের নামের তালিকা করা হয়েছে।
বাকি তালিকাগুলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিদ্যমান বিরোধে আটকে আছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরোধের কারণে অনেক স্থানে ডিলার নিয়োগ এখনো শেষ হয়নি।
মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার বাহাদুর আলী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের এক হাজার ৩৯২ জনের তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছি। কিন্তু ৫০০টি কার্ডের বিপরীতে একজন হিসেবে তিনজন ডিলার নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও একজন এখনো হয়নি।
কার্ডের উপর কোন ডিলারের কাছ থেকে চাল উত্তোলন করতে হবে তা উল্লেখ করার নিয়ম রয়েছে। তাই ডিলার নিয়োগ না হওয়ায় গ্রাহকদের মাঝে কার্ড বিলি করা যাচ্ছে না। তবে ইউনিয়নে কম দামে চাল বিক্রির কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে।
একজন ডিলার ২৩২টি কার্ডের চাল খাদ্য অফিস থেকে উত্তোলন করেছিলেন। তা দিয়ে সংসদ সদস্য কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এরপর আর বিক্রি করা হয়নি।’
সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে এখনো চাল বিক্রি শুরু হয়নি।
তবে সব তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে ডিলাররা চাল উত্তোলন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিক্রি শুরু করা হবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাল দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে ডিলাররা চাল উত্তোলন না করলে সময়ের পরে আর দেওয়া হবে না। সেই হিসেবে ইতোমধ্যে কম দামে এক মাসের চাল ক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন জেলার হতদরিদ্ররা।
এমএনজে





