বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে।

এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার: সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার’। প্রতিপাদ্য অনুযায়ী জনসাধারণের মধ্যে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ কমাতে অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ হ্রাসের কোনো বিকল্প নেই।

খাদ্য উৎপাদন, বিপণন, সংরক্ষণ, প্রস্তুতকরণ ও গ্রহণের যেকোনো পর্যায়ে খাদ্য অনিরাপদ হতে পারে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে সকল স্তরের খাদ্য উৎপাদনকারী, বিপণনকারী, ভোক্তা, আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থাসহ সকলের ব্যাপক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

দেশে বর্তমানে খাদ্য ভেজালে ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ক্যানসার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তায় যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষক মহল।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে এবারের প্রতিপাদ্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়রে সুফল দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। ফলে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমেছে, মা ও শিশুমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ।

এ উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জনগণের সার্বিক স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার সরকার দেশব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক সাফল্যের সাথে কাজ করছে, যা ইতিমধ্যে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।

তার সরকারের নেওয়া এ সকল পদক্ষেপের সুফল এখন জনগণ পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদেরকে পুরস্কৃত করেছে।’

ইআর