শিশুদের জন্য আলাদা অধিদপ্তর গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
বৃহস্পতিবার সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘যুবকদের জন্য, মহিলাদের জন্য যদি অধিদপ্তর থাকতে পারে, শিশুদের জন্য কেন নয়?’
সভার আয়োজন করে চিলড্রেন রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক হান্টা গ্রাস। বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন ইমরানুল হক, মানবাধিকার কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, শিশুদের জন্য অধিদপ্তর চাওয়া বেশি কিছু নয়। আমরা শিশুদের উন্নয়ন যতো বেশি করতে পারব, দেশও ততো বেশি উন্নত হবে।
তিনি বলেন, শিশু অধিদপ্তরের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনিও অধিদপ্তর গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শিশুদের নৈতিকতাসহ যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। যেন আমাদের শিশু ও যুবকরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিশু অধিদপ্তর গঠনে সরকারের মধ্যেও কোনো দ্বিমত নেই। এ অধিদপ্তর গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেই ২০১৪ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয় একটি আলাদা অধিদপ্তরের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
তিনি বলেন, গত বছর মন্ত্রণালয় থেকে যুগ্ম সচিব তাহমিনা বেগমের নেতৃত্বে এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি বর্তমানে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।
বর্তমান সরকার শিশুদের উন্নয়নের জন্য বিশেষভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দূরদর্শিতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই শিশু শিক্ষার হার বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়েছে, মৃত্যুহার কমেছে ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুর ব্যবহার কমে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিশুদের জন্য পৃথক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ওএফ





