গত ১ মাসের ব্যাবধানে নীলফামারীতে আরো এক ব্যাবসায়ী অপহরনের শিকার হয়েছেন। নীলফামারীর ব্যাবসায়ী আরিফুজ্জামান সুমন অপহরনের ১০ দিনেও কোন সুরাহা হয়নি। এর ফলে অজানা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে অপহৃতর পরিবারের।

দিন বাড়ার সাথে সাথে তাদের মাঝে বাড়ছে ভীতি। অপহরনের ঘটনায় থানায় প্রথমে সাধারন ডায়েরী ও পরে মামলা হলেও পুলিশের ভুমিকার কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অপহরনের শিকার ব্যাবসায়ী হলেন, আরিফুজ্জামান সুমন (৩৫)। সে জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের আশিকুজ্জামানের ছেলে।

থানায় দায়ের করা মামলার বিবরনে জানা যায়, জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের ব্যাবসায়ী আরিফুজ্জামান একজন ব্যাবসায়ী। তিনি ধান, ভুট্টা ও পাথর ব্যবসা করে আসছেন। সাপ্রতি তিনি গাইবান্ধার এক ব্যবসায়ীকে বাকীতে তার মামলামাল বিক্রি করেছিলেন। গত ৫ মে গাইবান্ধার ওই ব্যবসায়ী টাকা পাঠানোর জন্য একটি ব্যাংক একাউন্টস চায়।

এরই প্রেক্ষিতে সুমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফেরদৌস মিয়ার ইসলামী ব্যাংক জলঢাকা শাখার একটি হিসাব নম্বর দেয়। বন্ধুর সেই হিসাবে ওই দিনেই গাইবান্ধার সেই ব্যাবসায়ী সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেয়। এসময় সুমন তার বন্ধু ফেরদৌস আলমকে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে ইসলামী ব্যাংক জলঢাকা শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য যায়।

ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সুমনের ফোনে কল আসলে সুমন টাকা না নিয়ে ব্যাংকের নিচে নেমে আসে। এক পর্যায়ে ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মোজাম্মেল হক মোজা (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তারেক (২৮) কে সাথে নিয়ে সুমন পুনরায় ব্যাংকে প্রবেশ করে। পরে ৬টা ১১মিনিটের সময় ব্যাংক হতে টাকা গ্রহণ করে ২/৩ মিনিটের মধ্যে মোজাসহ তারা ব্যাংক ত্যাগ করে। এরপর থেকে আরিফুজ্জামান নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে বড়ভাই হাসানুর রহমান জলঢাকা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। জিডি নং-২৩১, তারিখ-০৬/০৫/১৬। এদিকে সুমনের সন্ধানে পরিবার ব্যাংকে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মোজাম্মেল হক মোজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মোজা অসংলগ্ন আচরন করেন।

এ কারনে সুমনের পরিবার সন্দেহ করে যে, উল্লেখিত ব্যক্তিরা যোগসাজশ করে সুমনকে হত্যা করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ মর্মে একই থানায় ওই ৪ জনকে আসামী করে ১২ মে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরর এ দীর্ঘ সময় পরেও পুলিশের দৃশ্যমান কোন তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অপহরনের শিকার ব্যাবসায়ীর পরিবার এখনো জানতে পারেনি, ব্যাবসায়ী সুমন জীবিত আছে না তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হাসান ইনাম অপহরনের বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, এ ঘটনায় প্রথমে থানায় জিডি ও পরে মামলা হয়েছে। তবে এখনো সুমনের কোন হদিস তারা বের করতে পারেনি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের আন্তরিকতার অভাব নেই।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাতে নীলফামারী শহরের উকিলের মোড়ের বাড়ী থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নীলফামারী সরকারী কলেজের অনার্স রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নূরে আলমকে। আবার ২৪ এপ্রিল ভোর রাতে জেলার সদর উপজেলার গোড়গ্রাম কির্ত্তনিয়াপাড়া বিহারী পাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুর রহমান (২৫) নামের এক শ্রমিককে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এমআর