কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর ডা. শেজাদী আপসা হত্যা মামলায় তার স্বামী লে. কর্নেল (বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত) মো. সফিকুল ইসলামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ মে কুমিল্লা সেনানিবাসের নীলিমা ৭৪ নামক বাসভবনে লে. কর্নেল মো. সফিকুল ইসলামের (৪২) স্ত্রী ডা. শেজাদী আপসারের (৩৪) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই সেনা কর্মকর্তাসহ আরো ৪ জনকে আসামি করে ১৫ মে রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই ডা. মো. জাভেদ হোসেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন সকালে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শেজাদীকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। খবর পেয়ে ওই দিন দুপুরে শেজাদীর ছোট ভাই ডা. মো. জাভেদহোসেন ও তার মা কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসায় এসে শেজাদীর লাশ তার বেড রুমের মেঝেতে চাঁদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব একই বছরের ২ নভেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেজাদীর স্বামী সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলার অপর ৩ আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সহকারী কৌশলী (এপিপি) গিয়াস উদ্দিন জানান, সোমবার সফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

এদিকে সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে ওই সেনা কর্মকর্তা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

সূত্র জানায়, সেনানিবাস অভ্যন্তরে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হওয়ার পর সেনা আইনে তাকে গত বছরের অক্টোবর মাসে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
২০০০ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার সবুরিয়াপাড়া গ্রামের দেওয়ান আলী প্রধানের ছেলে সেনা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই উপজেলার জামালিয়াকান্দি গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার বড় মেয়ে ডা. শেজাদী আফসার বিয়ে হয়।

শেজাদী আপসা বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার পর সফিকুলের সঙ্গে শেজাদীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর ২০০০ সালে এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাদের বিয়ে হয়। ২০০২ সালে তিনি চিকিৎসক হন। আহনাফ ইনতেজার সামিন নামের তাদের ১১ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে।

জেআই,