বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি অবহিত করে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এমপি বাদশার পক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য মনির উদ্দিন পান্না রবিবার রাতে এ অভিযোগ করেন।

জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা নতুনপাড়ার গাঙ্গপাড়া খালের দুই পাশের বাড়িঘর এবং স্থাপনা উচ্ছেদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অভিযান প্রতিরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

উচ্ছেদ প্রতিরোধে রোববার সকাল ৮টা থেকে রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ও এলাকাবাসী ওই এলাকায় অবস্থান নেন।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। এ সময় সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। অবশেষে পাউবো কর্মকর্তারা ওই এলাকার পাউবো ও খাসজমি সঠিকভাবে পরিমাপের পর উচ্ছেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ঘটনায় এমপি বাদশা ওই এলাকায় অবস্থানকালে তাকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ফজলে হোসেন বাদশার পক্ষে বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি করেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনির উদ্দিন পান্না।

অভিযোগে বলা হয়, মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি ০১৯৩৯৪৭২৮৫১ নম্বর থেকে ফোন করে এলাকা থেকে এমপিকে সরে যেতে বলেন। না হলে প্রাণ থাকবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো নোটিশ ছাড়াই ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর চেষ্টা করে পাউবো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়। তবে স্বল্প সময়ে বাড়িঘর সরিয়ে নেয়া অসম্ভব।

স্থানীয় কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পচা বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকে এ এলাকায় প্রায় ২৫০টি পরিবার বসবাস করছে। প্রতিটি বাড়ির হোল্ডিং নম্বর রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া আমরা সিটি কর্পোরেশনকে নিয়মিত রাজস্ব দিই। প্রায় তিন হাজার মানুষের মধ্যে ৫০ জনের বেশি এসএসসি পরীক্ষার্থীও রয়েছে। এ অবস্থায় উচ্ছেদ অত্যন্ত অমানবিক। ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছেদের নোটিশ দেখাতে পারেননি।

পাউবো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম বলেন, গাঙ্গপাড়া খাল প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সেখানে পাউবোর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, সাংসদ বাদশার পক্ষে একটি জিডি গ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএস