কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে থেমে আছে বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ কার্যক্রম। বরাদ্দযোগ্য জমির অভাবে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরীতে নতুন-নতুন কলকারখানা স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন বিসিক শিল্পনগরীর জমি সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও গত ৬ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে থমকে গেছে কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীর সম্প্রসারণের কার্যক্রম।
সূত্র মতে, কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া এলাকায় ১৯৬৭ সালে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ওই সময় সাড়ে ১৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় বিসিক শিল্পনগরী। মোট ৮৬টি প্লটের মধ্যে ৫টি প্লটে বিসিক শিল্পনগরীর অফিস স্থাপন করা হয়। অবশিষ্ট ৮১টি প্লট শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়।
বর্তমানে বিসিকের ২৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ২১টি ইউনিটে উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদনরত ইউনিটগুলোর বিস্তৃতি ও পরিসর বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দযোগ্য সব প্লট ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর দিন দিন কারখানা ও জমির চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
সরকার প্রতি বছর বিআরবি গ্রুপসহ কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরী থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও শিল্প এলাকার কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। জায়গার অভাবে স্থাপন করা যাচ্ছে না নতুন নতুন কলকারখানা।
ফলে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীর উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিদেশে রফতানি করে বছরে প্রায় শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। সরকারও বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে।
কুষ্টিয়ার এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব আয় করছে। অপরদিকে এ জেলার প্রায় ১০ হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প কলকারখানা ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় এ জেলায় পণ্যসামগ্রীর চাহিদার কারণে শিল্পোদ্যোক্তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার ঝোঁক বাড়লেও বিসিক শিল্পনগরীতে জমির অভাবে তা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার প্রধান অফিস, কুষ্টিয়া বিসিক শিল্প কেন্দ্র উপ-মহাব্যবস্থাপক, বিসিক শিল্প মালিক সমিতি সভাপতি কুষ্টিয়ার বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ ৬ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
কুষ্টিয়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক নেপুর আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়া শিল্পনগরী সম্প্রসারণ অতীব জরুরি বলে তা প্রস্তাবনা আকারে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীকে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সৃষ্টিকারী বিসিক শিল্পনগরীকে সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুল মহসীন স্বাক্ষরিত একটি পত্র ঢাকা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক বরাবর প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
এখন কুষ্টিয়া শিল্পনগরীর এলাকায় সম্প্রসারণের পরিবর্তে দখলের চেষ্টা চলছে। সেখানে বেহাত হয়ে যাচ্ছে বিসিক শিল্পনগরীর এলাকার সম্পত্তি। গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা।
কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম জানান, জায়গার অভাবে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরীতে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি অবিলম্বে এ অঞ্চলের বেকার সমস্যা সমাধান ও নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনে বিসিক শিল্পনগরীর জমি সম্প্রসারণের পাশাপাশি এসব জায়গা যাতে হাত ছাড়া হয়ে না যায় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসএইচ





