বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের রায়ছটা সন্দ্বীপপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলীকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালীর থানার ওসি সালাউদ্দীন টাইমনিউজবিডি‘কে বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক মো. আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে গতকাল।
আজ (বুধবার) বিকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের তদন্তে আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমন প্রমান পাওয়া গেছে। যেগুলি পরবর্তীতে বিশদভাবে তদন্ত করা হবে।
অভিযোগের ব্যাপারে ভিকটিম সুমি আক্তার (৮) টাইমনিউজবিডি‘কে বলেন, স্যার আমাকে স্কুলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে পরে নির্যাতন করে ও ধর্ষনের চেষ্টা করে।
তবে অভিযোগকারী সুমির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অত্র স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের সাথে স্যার কখনো খারাপ আচরন করেনি।এমনকি স্যার আমাদের কখনো মারধর পর্যন্ত করেনি।তিনি অনেক ভাল একজন মানুষ।
ধর্ষনের অভিযোগ সম্পর্কে রায়ছটা সন্দ্বীপপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মৌলানা হাশেম টাইমনিউজবিডি‘কে বলেন, আগে এ ধরনের কোন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য এটি ষড়যন্ত্র বলেও দাবি তার।
ভিকটিমের বাবা ও মা টাইমনিউজবিডি‘কে বলেন, আমরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।এবং এমন শাস্তি যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপকর্ম করতে সাহস না পায়।অভিযুক্ত শিক্ষকের স্বজনরা বারবার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের ও হুমকি।তাই প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই আমি।
এ ব্যাপারে অত্র স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা নাছেরুল জান্নাত বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যার কারনে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। তাই সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহালের দাবি জানান।
ধর্ষনের অভিযোগের ব্যাপারে উক্ত এলাকার স্থানীয়রা বলেন, এটি একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক অভিযোগ বলে আমাদের ধারনা।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল দুপুরে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের রায়ছাটা সন্দ্বীপীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীর বাবা মঙ্গলবার সকালে বাঁশখালী থানায় অভিযোগ করেন।
মাসুম/এমবি





