দশম সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, নির্বাচনী উপকরণ নষ্ট করাসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ সব ঘটনা শোনার জন্য ‘দশম সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়’শীর্ষক মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (৩ দিন ব্যাপি) রংপুর বিভাগে এ মতবিনিময় সভার কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোহাম্মদ আবু হাফিজের কারণে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), ৪ নির্বাচন কমিশনার ও সচিব দেশের ৭টি বিভাগে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং, পোলিং কর্মকর্তা, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শোনার কথা ছিল। এক্ষেত্রে ইসি কর্মকর্তাদের বাইরে শুধু জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (যারা রিটার্নিং ও সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
আমন্ত্রণ অনুযায়ী আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর (৩ দিনব্যাপি) রংপুর বিভাগে কর্মশালা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করেছিল ইসি। ৭ বিভাগে কর্মশালার জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৯৮ লাখ টাকা। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগে এই কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজকে এ কর্মশালা সম্পর্কে কিছুই না জানানোর কারণে কমিশন বৈঠকে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর শুরু হতে যাওয়া প্রোগ্রাম এ বৈঠকে স্থগিত করা হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজের বাড়ি রংপুর বিভাগে। অথচ তাকে এ কর্মশালা সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি ।
এদিকে গত সপ্তাহে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মো. সামসুল আলম রংপুরের বিভাগী কমিশনারকে ‘দশম সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়’নিয়ে এক চিঠিতে জানান, এ বিভাগে নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মশালা করা হবে। এতে নির্বাচনী বিষয় ভিত্তিক উপস্থাপনা, দলীয় কাজ এবং প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতে আজ (মঙ্গলবার) একই কর্মকর্তা আমন্ত্রিতদের আরেক চিঠিতে জানানো হয়, রংপুর বিভাগের এ কর্মশালাটি ‘অনিবার্য কারণবশত আপাতত স্থগিত’করা হয়েছে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, একজন নির্বাচন কমিশনার এ কর্মশালার বিষয়ে আপত্তি জানানোর কারণে স্ট্রেংদেনিং ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ (এসইএমবি) সহযোগিতায় রংপুরে তিন দিনের এক কর্মশালা আয়োজনের কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না। এটা করা হলে নির্বাচন কমিশনের কোটি টাকা অপচয় হতো।
তারা আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে দাবি করলেও নাশকতার মধ্যে ভোট হয়েছে। বিভাগ ওয়ারি এ কর্মশালায় শুনতে গিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হতে পারে। একারণে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোহাম্মদ আবু হাফিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বর্জনের মুখে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দলের অংশগ্রহণে গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়। আর নির্বাচন হয় ১৪৭ আসনে। নাশকতার এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যসহ ২১ জন মারা যান। এ সময় পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, তিন শতাধিক নির্বাচনী কর্মকর্তা আহতের ঘটনাও ঘটে।
ঢাকা, এএম,২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





