আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে মতামত দিয়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আর অপরদিকে এ ব্যাপারে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছাড়া বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই একমত। সবাই সেনা মোতায়েনের পক্ষে। আর সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপরীতে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ইসিকে জনগণের আস্থা অর্জন এবং নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের প্রস্তাবে ব্যালটে পুনরায় ‘না’ ভোট রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কমিশনকে এখন থেকেই পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রশাসন ঢেলে সাজানো, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনোভাবেই প্রচারে ব্যবহার না করা এবং অনলাইনে নির্বাচনী প্রচার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব আসে।
ইসির সঙ্গে সুশীল সমাজের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন শক্ত থাকবে, এটা আমরাও চাই। এ বিষয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। তবে সেনাবাহিনীর একটি ভাবমূর্তি আছে। এর দায়িত্ব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তাদের রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তাদের যত্রতত্র নামিয়ে দিলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। পুলিশ এখন অনেক বড় ও শক্তিশালী। সঙ্গে বিজিবি আছে। সুতরাং এরাই যথেষ্ট।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে সংলাপে গিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, তার সবগুলোকেই বিএনপি সমর্থন করে।
নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থার সংকট কাটানোর দিকে নজর দিতে বলেছে বর্তমান সরকারের জাতীয় পার্টিও (জাপা)। দলটি মনে করে, মানুষ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আস্থা সৃষ্টি। এর জন্য আগে ইসিকে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, যাঁরা নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে মত দিয়েছেন, তাঁরা সবাই যোগ্য ও জ্ঞানী। নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশের ওপর সঠিক বিশ্লেষণ করা এবং তাঁদের মূল্যায়ন জনগণের সামনে তুলে ধরা। কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা না গেলে কেন গ্রহণ করা যাচ্ছে না, সে যুক্তি দেওয়া। এটি করা গেলে ইসির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) বলেছে, সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনেক সত্য কথা বলেছেন। তাঁদের অনেক বক্তব্য বা পরামর্শের সঙ্গে অনেক জায়গায় সিপিবিরও মিল আছে।
এমএনজে





