কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিরাপত্তায় যারা নিয়োজিত সেই আনসার সদস্যরাই থাকেন নিরাপত্তাহীনতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন থেকে আরেকটি ভবন অনেক দূরে হওয়ায় এসব ভবনের নিরাপত্তারক্ষীরা রাতে একাকি দায়িত্ব পালনকালে নিজের ওপর দুর্বৃত্তের হামলার আশঙ্কায় থাকেন।
শুধু তাই নয়, ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত বাহিরাগতদের আনাগোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন আনসার সদস্য জানান, ১৭৫ একর জমির উপর অবস্থিত ইবির নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করে মোট ৫৯ জন আনসার সদস্য। এদের মধ্যে ১১ সদ্যস্য দায়িত্ব পালন করেন কুষ্টিয়া শহরে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার এবং কুষ্টিয়া গাড়ি গ্যারেজে নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কুষ্টিয়া অবস্থান করেন।
বাকি ৪৮ জন তিন ভাগে ৮ ঘণ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষায় কাজ করে থাকেন। রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মেইন গেটে ২ জন, হলগুলোতে ১/২ জন, অনুষদ ভবন গুলোতে ১জন, ভিসির বাংলোয় ২ জন, প্রশাসন ভবন, মমতাজ ভবন, ডরমেটরি, চিকিৎসা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ অন্যান গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ১ জন করে নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ প্রত্যেকটি ভবনে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র রয়েছে। যেখনে রাতে ১ জন করে দায়িত্ব পালন করায় নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বলে অভিযোগ করেছে আনসার সদস্যরা।
তারা জানান, রাতে দায়িত্ব পালনের সময় চোর-ডাকাত, দুর্বৃত্তদের হামলার আতঙ্কে থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভবন থেকে অন্য ভবনের দূরত্ব অনেক। ইবি ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পাশে নির্জন এলাকায়। রাতে এখানে ১ জন দায়িত্ব পালন করা ভীতিকর এবং অসম্ভব বলে জানান তারা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অবাধে চলাচলে আতঙ্কতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ আনসার সদস্যরা বাৎসরিক যে ছুঁটি ভোগ করেন তা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ইবিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা। জরুরি কাজে কোনো আনসার সদস্য ছুঁটি নিলে তার দায়িত্ব পালন করতে হয় অন্য সদস্যদের। তারা আরও জানায়, দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু খোঁয়া গেলে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে তার বেতনের টাকা দিয়ে জরিমানা দিতে হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক আনসার সদস্য। এসব সমস্যা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য ইবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আনসার সদস্য নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন কয়েক বার উদ্যোগ নিলেও বিশ্ববিদ্যালয় একাউন্টস বিভাগ তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার কমান্ডার মোসতাক আলী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্য শাকিল আহমদ বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য কাজ করি কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে ?। আমরা কাজ করার সময় আতঙ্কে থাকি এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। রাতের বেলা একা একা দায়িত্বপালন করা সত্যি আসম্ভব। আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন কখনো ভাবে না। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন বলেন, সন্ত্রাস রুখে দেওয়ার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি সাধারণ নিরপরাধ নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়া সরকারেরই দায়িত্ব। সন্ত্রাসের সাথে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রশাসনকে সবধরণের সহযোগিতা করবো। এদিকে, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এবং আশপাশের হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকার এবং প্রশাসনের কাছে তারা নিজেদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের দাবি জানান। কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা নিরাপত্ত্বাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য যে সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী দরকার তা অপেক্ষা আমাদের আনসার সদস্য কমই হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। তাই ইচ্ছে থাকলেও সকল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তবে নিরাপত্তাকর্মী বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চলছে।
এসএ





