বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপিকে তিনটি শর্ত মানার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে বুধবার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের আয়োজনে দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় তিনি এ শর্ত দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভুলে গেলাম রক্তাক্ত ইতিহাস। ভুলেই গেলাম ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার ঘটনা। জাতীয় স্বার্থে সেটাকে আমরা সমঝোতার পথে অন্তরায় হিসেবে দেখতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘‘১৫ আগস্টের খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন, সেটা না হয় বাদ দিলাম। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ‘প্রাইম টার্গেট’ করে আমাদের নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিলেন। সেটাও না হয় গণতন্ত্রের স্বার্থে বাদ দিলাম। আহসানউল্লাহ মাস্টার, এ এস এম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের রক্তাক্ত স্মৃতির কথা না হয় ভুলে গেলাম।”

সমঝোতার শর্ত তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর দিন শেখ রাসেলেরও শাহাদাতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের দিনে ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিনের কেক কাটা বন্ধ করতে হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষ্কার কথা, গণতন্ত্রের স্বার্থে সমঝোতা চাই। কিন্তু বিএনপিকে সমঝোতার স্বার্থে পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সুরে কথা বলা বন্ধ করতে হবে। এই তিনটা বিষয়ে যদি সমঝোতা হয়, তাহলে সংলাপও হবে, সমঝোতাও হবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘কিন্তু ১৫ অাগস্টে বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেলকে হত্যার দিনে কেক কেটে আনন্দ করবেন আর সেই মুখেই আবার সংলাপ-সমঝোতার কথা বলবেন, সেই সমঝোতা চাই না, বাঙালি জাতি চায় না।’

তিনি বলেন, ‘ভায়োলেন্স, রক্তের রাজনীতি, পেট্রোলবোমা, ককটেল সহিংসতার রাজনীতি ছেড়ে বিএনপি যদি গণতন্ত্রের স্বার্থে সমঝোতা চায়, দেশের স্বার্থে সমঝোতা আমরা মানি। আবারও বলছি, এই তিনটি বিষয়ে আগে সমঝোতা হতে হবে, তারপর সংলাপ-সমঝোতা সবকিছুই হবে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসনে পল্টু, সংসদ সদস্য ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশুকিশোর পরিষদের মহাসচিব মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

এমএইচ