চাকরির প্রলোভন দিয়ে স্কুলছাত্রী শাপলা খাতুনকে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে একটি মানব পাচারকারী চক্র। গত ৮ মাস যাবৎ শাপলা কোথায় কেমন আছে তা কেউ জানেনা। তবে বিক্রির পর প্রতারক তাজুল ইসলাম গ্রামে ফিরে এলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

শনিবার সকালে শাপলা খাতুনের বাড়িতে সরেজমিনে কয়েকজন সাংবাদিক গেলে স্বজনরা এ তথ্য জানান।

এদিকে মেয়েকে ফিরে পেতে পিতা-মাতা ও স্বজনরা নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মূল আসামিকে ছেড়ে দিলেও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

গাইবান্ধা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার সোজা দক্ষিণে বাদিয়াখালী ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম রামনাথের ভিটা। এ গ্রামের বাসিন্দা কাসেম আলী। তার তিন মেয়ে কল্পনা, শাপলা, সাথী।

তার মেয়েরা সবাই সুন্দরী। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। শাপলা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, আর সাথী ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। দুজনই বাদিয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

সংসারে অভাব-অনটনের সুযোগে একই এলাকার পাচারকারী চক্রের হোতা তাজুল ইসলামের নজর পড়ে দুই মেয়ের উপর। পাচারকারী তাজুলের দুইজন স্ত্রী আছে। কিন্তু তাজুলের টার্গেট শাপলা ও সাথীর উপর।

ভালো দাম পাওয়া যাবে এই আশায় শাপলাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে তাজুল। নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করে চাকরির প্রস্তাব দেয় শাপলার মা ও দুই মেয়েকে।

এতে রাজি না হওয়ায় চতুর তাজুল ইসলাম শাপলাকে মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরির কথা বলে নিয়ে যায়।

সরল বিশ্বাসে শাপলা তাজুলের ফাঁদে পা বাড়ায়। তারপর গত ৩১শে অক্টোবর পাচারকারী তাজুল শাপলাকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়।

তার স্বজনরা শাপলাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তারা তাজুলকে চাপ দেয় মেয়েকে ফেরত এনে দেয়ার জন্য। সে সময় বলা হয় যে সে চাকরি করছে।

কিন্তু গত ১৩ই এপ্রিল ০১৮৬৩২০৭৬৮৯ মোবাইল থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তার মা সাজেদা বেগমকে বলা হয় তোমার আর কোন মেয়ে আছে? তাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দাও। এতে রাজি না হলে অপর প্রান্ত থেকে তার নিখোঁজ মেয়ে শাপলাকে ফোন ধরিয়ে দেয়া হয়। শাপলা চিৎকার করে কেঁদে বলে মা- তোমরা আমাকে বাঁচাও। তাজুল আমাকে বিক্রি করে দিয়ে গেছে। তারপর ফোনটি কেটে দেয়া হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী ও শাপলার স্বজনরা তাজুলের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়েকে ফেরৎ এনে দিতে এবং কোথায় রাখা হয়েছে জানতে চান। কিন্তু অবস্থা দেখে তাজুল তার দ্বীতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

পরে মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় সাজেদা বেগম বাদী হয়ে তাজুলসহ ২ জনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করে। মামলার পর পুলিশ তাজুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পেলেও গ্রেপ্তার না করে ফিরে আসে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার ও প্রতারক তাজুলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি রাজিউর রহমান বলেন, আজ ভোরে এ মামলার অভিযক্ত মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক কাহিনী বেরিয়ে আসতে পারে।

এমকে