আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা আজ পালন করছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতি বছর এ ঈদ আনন্দের বার্তা বয়ে আনলেও বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে ‘নিরানন্দভাবে’ অন্যরকম পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। অনুষ্ঠিত হয়নি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ অন্যান্য মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের আয়োজন ভিন্ন।

বাংলাদেশে ঈদের জামাতের পর কোলাকুলি আর স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির রেওয়াজ থাকলেও এবছর থাকছে না তেমন কোনো আয়োজন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার করোনা-বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে ঈদের জামাতে তিন ফুট দূরত্ব রাখার পরামর্শ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা আসে কোলাকুলি করার ক্ষেত্রেও। ঈদ হলেও সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রাজধানী ঢাকার মিরপুর ও আশপাশের এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি মসজিদে আজ দেখা যায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অনেকেই রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। প্রায় কাউকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি। প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন।

তবে একটি জামাত শেষে অন্য আরেকটি জামাতের জন্য মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময় বেশ ভিড় তৈরি হতে দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘরে থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেব।’

এর আগে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেশি কিছু নির্দেশনা মানার পরামর্শ দেয়।

এমআর