বিচারকদের সততা ও স্বচ্ছতার জন্য জাতীয় সংসদের হাতে অভিশংসন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার সন্ধ্যায় বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ৮৩তম পর্বে অভিশংসন ক্ষমতা নিয়ে ইলারা রেজিন নামে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। অসদাচরণ ও অযোগ্যতার জন্য অভিশংসন করা যায় এবং হচ্ছে। অভিশংসন করার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংবিধানের মতো আমাদের সংবিধানেও আছে। অযোগ্যতা আর অসদারণ আইনের মধ্যে থাকলে কোনো প্রশ্ন থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি।
আনিসুল হক বলেন, এখন অনেকের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন জাগছে। তবে আইন জারির পর নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কোনো সমস্যা হবে না।
তদন্তের ক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিচার ও অভিযোগ যেহেতু সংসদ করবে সেহেতু তদন্তের ভার সংসদের হাতে থাকা উচিত নয়।
মন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক আছেন এমন একজন ও সুপ্রিম কোর্টের দুইজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত করা যেতে পারে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদ সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে কোনো সংঘাত তৈরি হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
অভিশংসন প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, অভিশংসন আইন করা হলে বিচার বিভাগের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তা নির্বাহী বিভাগে পরিণত হবে। এ আইন দেশের জন্য বিপদ সংকেত।
তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগ কোনো ভুল করলে জনগণ বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রাখে। বিচার বিভাগ কীভাবে নির্বাহী বিভাগ দ্বারা প্রভাবিত হয় তা সবাই জানে। সরকারি দলের কাছে বিচারপতিদের অনুগ্রহের জন্য যদি নির্ভর করতে হয় তাহলে এর অস্থিত্ব থাকবে না।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের সংঘাতকে আরো উস্কে দেবে। ‘অবৈধ’ সংসদকে যে অবৈধ ক্ষমতা দেওয়া হলো তাতে অরাজকতা আরো বাড়বে।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





