রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা রেনু নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি হৃদয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৬ জনের নাম জানিয়েছে।

আজ বুধবার ডিএমপি সদর দপ্তরে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

হৃদয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বাতেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানিয়েছে ঘটনার দিন রেনু স্কুলে প্রবেশ করার সময় গেটে থাকা অন্য এক নারী অভিভাবক তার পরিচয় এবং বাসার ঠিকানা জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেনু ওই নারীকে তার নাম-ঠিকানা জানান। সে সময় ওই নারী রেনুকে দেখিয়ে ছেলেধরা বলে চিৎকার করেন।

রেনু হত্যার পাঁচদিন পর মঙ্গলবার(২৩ জুলাই) রাতে নারাণগঞ্জের ভুলতা থেকে হৃদয় খানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জানায় , হৃদয় বাড্ডার ওই স্কুলের পাশে সবজি বিক্রি করতো।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বাড্ডায় রেনু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়া সবজি বিক্রেতা হৃদয়কে মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ১৬ জনের নাম জানায়। এ ১৬ জনের মধ্যে ৭ জন ঘরের তালা ভেঙে রেনুকে বাইরে বের করে এনে পেটাতে শুরু করেছিল।

হৃদয় খান একজন সবজি বিক্রেতা। ঘটনার দিন ছেলেধরার গুজব শুনে আরো অনেকের সঙ্গে স্কুলে প্রবেশ করে রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করে সে। এরপর পালিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ। তাকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে একথা জানায় ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, হৃদয় এরপরেই বুঝতে পারে তাকে খোঁজাখুজি করা হয়েছে। সে চলে যায় নারায়ণগঞ্জে। দুদিন পর চুল ন্যাড়া করে। এছাড়া তার সব কাপড় পুড়িয়েও ফেলতে বলেন তার নানীকে।

এসময় তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত হৃদয় আরো বেশ কয়েজনের নাম বলেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এটা স্বীকার করেছে। এছাড়া সেসহ যারা রেনুকে তালা ভেঙে করে আনে, তাদের নাম বলেছে। আমরা তাদের দ্রুত গ্রেফতার করবো।

এদিকে বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে পুলিশ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানান, গুজব প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেশের সব থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ, শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে স্থানীয় একটি স্কুলে যান মা তাসলিমা রেনু (৪০)। এ সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে টেনে বের করে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় এদিন রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন।

এএস