বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে গত ছয় বছর ধরে চলে আসা নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। গত ছয় বছর গৃহকর্মী ছাড়া অন্য খাতে কর্মী নেয়নি দেশটি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে অন্যান্য খাতেও কর্মী প্রেরণে আর কোনো বাধা রইল না।

এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে মোট ৪৮টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের মানুষ সে দেশে কাজ করার সুযোগ পাবে। সৌদি আরবে বর্তমানে ৬০ হাজার নারী ‍গৃহকর্মীসহ প্রায় ১৩ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছে। আরো প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি সেখানে অবৈধভাবে রয়েছে।

বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান আশানুরূপ হারে বাড়ছে। শুধু ২০১৬ সালেই এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৪ জন বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ২৯ মে পর্যন্ত চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৪ বাংলাদেশি প্রায় ৪ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ দক্ষ, আধাদক্ষ ও অদক্ষ বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন এবং ১৫ হাজার ২৭০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যথেষ্ঠ সুনাম রয়েছে। সৌদি আরবেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখেছি, সৌদি আরবসহ আরব দেশে যেসব নারী গৃহপরিচারিকারা কাজ করেন তারা সেখানে নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন।

কিন্তু সে সবের প্রতিকারের ক্ষেত্রে দেশটির সরকার বা আমাদের পররাষ্ট্র দফতর কি ভূমিকা নেয় তা আমরা জানতে পারি না। আর সে কারণে এই সেক্টর নিয়ে আমাদের দেশে একটি নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাটা জরুরি। কারণ, সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবিধি যাতে মানা হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া দরকার।

তাই বলব, সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির যে দুয়ার খুলে গেল তাকে কাজে লাগাতে পারলে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।

এমএনজে