দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। গন্তব্যে যেতে না পেরে আটকা পড়েছে ভারত ফেরত শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদসহ ৫জন নিহত হওয়ার মামলায় বাস চালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ ধর্মঘট শুরু হয়।

বেনাপোল গ্রীনলাইন পরিবহনের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান দুপুর ১২টায় জানান, উপর মহলের সিদ্ধান্তের কারণে তারা পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর থেকে কোন পরিবহন ছাড়বেন না। ভারত থেকে ফিরে আসা যাত্রীরা কেউ বিকল্প উপায়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন আবার কেউ তাদের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন।

বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, ধর্মঘটের কারণে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস হচ্ছে কম। যে সব ট্রাক বন্দর থেকে পণ্য লোড করছে তারা ধর্মঘট শেষ হওয়ার আশায় বন্দরেই অপেক্ষা করছে।

ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে পরিবার নিয়ে ফিরে আসা বরিশালের পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রদ্বীপ কুমার জানান, তিনি বেনাপোলে এসে আটকা পড়েছেন। আবাসিক হোটেলগুলোতেও কোনো সিট খালি নেই। কোথায় আশ্রয় নেবেন। কীভাবে বাড়ি ফিরবেন দুঃচিন্তায় পড়েছেন।

এদিকে, ধর্মঘটের ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রায় ৩ শতাধিক ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল ও জরুরি অক্সিজেন এবং পচনশীল বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আটকে থাকা পণ্য পচে ব্যবসায়ীরা মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশংকা করছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ই অগাস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের জোকা এলাকায় বিপরীতগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে থাকা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ট্রাক চালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

নাসির/জারিফ