নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতীতে প্রতিপক্ষ গ্রুপকে ফাঁসাতে প্রতিবেশি ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নড়াগাতী থানা পুলিশ আহত মুমুর্ষ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহতের বাড়ি নড়াগাতী থানার ইসলামপুর গ্রামে। ঘটনার পর হামলাকারি গা ঢাকা দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়াগাতী থানার ইসলামপুর গ্রামের নব-নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য হাদিউজ্জামান হাদি এবং মাউলী ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হায়দার মিকু গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছে। বিবাদমান দু’ গ্রুপের দ্বন্দের জের ধরে হাদিউজ্জামান গ্রুপের ক্যাডার একই গ্রামের লায়েব শিকদারের ছেলে সন্ত্রাসী আশরাফ শিকদার প্রতিবেশি ভাই রাসেল শেখের স্ত্রী শিরিনা বেগমকে (২৪) হত্যা প্রচেষ্টা চালায়। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বুধবার (১ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে নড়াগাতী থানার জয়নগর খেয়া ঘাটে নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে,পেটে,নাকের নিচে,উভয় হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত মনে করে ফেলে রেখে যায়।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে খেয়াঘাট সংলগ্ন বাজারের মুদি দোকানদার শুকুর আলী আহতকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি জয়নগর ইউপি চৌকিদার আলমগীর শেখকে বিষয়টি জানান। চৌকিদার থানা পুলিশে খবর দেয়। নড়াগাতী থানার এসআই মহিউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শিরিনা বেগমকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সকাল ৯.৩০ টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শিরিনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা মোতাবেক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল ইসলামের অনুমতি সাপেক্ষে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা.বুশরা আলম মৃত্যুকালীন জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। প্রসঙ্গত, ঘাতক আশরাফ শিকদার বুধবার নড়াগাতি থানায় দায়েররকৃত একটি হত্যা চেষ্টা মামলার (মামলা নং- ১) অন্যতম আসামী। ওই মামলার বাদীসহ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাবী শিরিনা বেগমকে হত্যা চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছেন অপরপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে নড়াগাতি থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন,‘বুধবার নড়াগাতি থানায় দায়েররকৃত মামলার বাদীপক্ষকে ফাঁসাতে আসামী আশরাফ শিকদার ও তার সহযোগীরা প্রতিবেশি ভাবী শিরিনা বেগমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত জেনে ফেলে রেখে যায় । তবে সৌভাগ্যক্রমে ভিকটিম এখনো প্রাণে বেঁচে আছেন। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তৎপর। অপরাধীদের বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিন্টু/জারিফ





