সুন্দরবনের বনদস্যু জিহাদ বাহিনীর ১০ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে বাগেরহাটের একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেহাটের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল- ২ আদালতের বিচারক মহিদুজ্জামান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দস্যুরা হলেন- বাগেরহাট সদরের পিসি ডেমা গ্রামের এখলাস আলী শেখের ছেলে ওমর ফারুখ ওরফে মাস্টার, রামপাল উপজেলার কালিকা প্রসাদ নগরের নূর মোহাম্মদের ছেলে আলী, প্রসাদ নগরের নূর মোহাম্মদের ছেলে ওলি, শৈলাতখালি এলাকার বড় দুর্গাপুর গ্রামের ইজার উদ্দিন শেখের ছেলে জাহাঙ্গির, দক্ষিণ সন্নাসী গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রফিক, খুলনার টিভি ক্রসরোডের নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম।
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ছোট আমখোলা এলাকার আবদুল লতিফ সিকদারের ছেলে মতি সিকদার ওরফে মতি ওরফে মাইন, একাই জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানি গ্রামের আবদুর রহমান মুক্তার ছেলে রিপন মুক্তার, চরদুয়ানি গ্রামের আলী হোসেন মুক্তারের ছেলে আবদুল বারেক মুক্তার, তালতলী উপজেলার নিদ্রাচর এলাকার চান মিয়া আকনের ছেলে আবদুর রশিদ আকন ওরফে কালা মাঝি।
রায় ঘোষণার সময় ওমর ফারুখ, মতি সিকদার ও আবদুর রশিদ আকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকী ৭ আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিররণী থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে ২৮ জানুয়ারি ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি স্টেশনের বলেশ্বর নদীর পশ্চিম পাড় থেকে বিপুল পরিমাণের অস্ত্র ও গেলাবারুদসহ বনদস্যু জিহাদসহ ওই বাহিনীর ৫ সদস্যকে আটক করে জেলে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
এ ঘটনায় ডিবির তৎকালীন এসআই শেখ আবু বক্কর বাদী হয়ে ওই দিন বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই ইমান উদ্দিন বনদস্যু জিহাদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এর মধ্যে বিচারকাজ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধান জিহাদ নিহত হয়। ফলে নিয়মানুযায়ী মামলার কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত ১৮৭৮ সালের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ১৯(এ) ধারায় এবং ১৯ (এফ) ধারায় এ রায় দেন।
কেএইচ





