জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্যের দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, বাংলাদেশ কিষাণী সভার যৌথ উদ্যোগে অদ্য ১০ জানুয়ারী ২০১৫ইং তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১১.০০টায় 

উক্ত কর্মসূচীতে ৮টি সংগঠনের সমন্বয়কারী কৃষকনেতা জায়েদ ইকবাল খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবল সরকার, বাংলাদেশ কিষাণী সভার সাধারণ সম্পাদিকা আরজুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ কৃষক সভার সভাপতি এ.এন.এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল ইসলাম স্বপন, আর.এম.জি ক্লাবের সমন্বয়কারী লাভলী ইয়াসমিন, বাঁচতে শেখো নারী নেত্রী ফিরোজা বেগম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার ও নাগরিক পরিষদের আহবায়ক মোঃ শামসুদ্দিন প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষক নিজের জীবন ধারনের নিশ্চয়তা না পেলেও তারা দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান দিচ্ছেন।

কৃষিতে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাব, জলবায়ুর পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় অমনোযোগের কারণে দেশের কৃষি ও কৃষক বহুমাত্রিক সমস্যায় জর্জরিত।

কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বহুজাতিক কোম্পানীর বীজ, সার, কীটনাশক, যান্ত্রিক সেচ নির্ভরতা কৃষির বিকাশ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক কৃষিতে টিকতে পারছেনা।

কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্র“টিপূর্ণ থাকার ফলে এক শ্রেণীর আড়ৎদার, ফরিয়া ও মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীদের নিকট কৃষক আজ জিস্মি। কৃষক উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে শুরু করে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রয় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে কৃষক ঠকছেন ও প্রতারিত হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার প্রতি বৎসরই ধান উঠার পর এর দাম নির্ধারণও সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু প্রকৃত কৃষক এই কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত। আজ ধান উৎপাদনে আমাদের স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এর প্রশংসার দাবীদার কৃষক সমাজ।

বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে স্বয়ং সম্পূর্ণতার লক্ষ্যে ধানসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির দাবী সমুহ:-

(ক) খাদ্যের নিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের ধারাবহিকতা রক্ষার তথায় জাতীয় উন্নয়নে কৃষিকে স্বনির্ভরতার খাতে উন্নতি করতে ‘কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন’ গঠন করতে হবে।

(খ) উৎপাদন খরচ, শ্রমের মূল্য ও মুনাফার যোগফলের ভিত্তিতে ধানসহ ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সরকার কর্তৃক ন্যায্যমূল্য কৃষকের নিকট থেকে চাল নয়, ধান ক্রয় করতে হবে।

(গ) ভরা মৌসুমে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বর্তমান নীতির ত্র“টি দূর করার লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারীর দূর্নীতির পরিমান শূন্যে আনতে হবে এবং রাজনতৈকি কোটা বাতিল করতে হবে।

(ঘ) সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে ওজনের কারচুপি বন্ধ করতে হবে এবং ধান বিক্রয় করতে এসে হয়রানি ও তাদের মূল্যবান কর্মদিবস নষ্ট করতে না হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

(ঙ) ফসলের মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে ফসলের আগাম লাভজনক মূল্য ঘোষণা দিতে হবে।

(চ) কৃষি উপকরণের মূল্য কমানো, কৃষিখাতে ভর্তুকী বৃদ্ধি, ভর্তুকী প্রদানের খাত ও প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা প্রণয়ন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

(ছ) কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে উৎপাদক বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে কার্যকর নীতি প্রণয়নসহ পুঁজি ও প্রযুক্তির সহায়তা দিতে হবে।

(জ) উৎপাদক কৃষক এবং সরকারি কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারকে সুবিধাজনক স্থানে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

এসএইচ