ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় রোগী বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ওষুধ। এতে বিপদে পড়েছেন গরীব রোগীরা। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকাসহ জনবলেরও অভাবের কারণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষক।
এছাড়া হাসপাতালে রয়েছে শয্যা সংকট। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায়রোগীদের মেঝে বা বারান্দায় সেবা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা নিরাপদ পানি পানসহ গোসল ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালে ৫০শয্যা নিয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালটির যাত্রা। ১৯৯৭ সালে শয্যা বাড়িয়ে ১০০তে উন্নীত করা হয়। অথচ এ হাসপাতালে প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পাশের পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অনেক রোগী।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে প্রাণ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনী মেডিকেল সরঞ্জামাদির তীব্র সংকট চলছে। এতে গরিব ও দুস্থ রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি হাসপাতালে এসে তাদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
পাশাপাশি হাসপাতালের পাঁচটি নলকূপ অকেজো থাকায় রোগী ও স্বজনদের পানিও কিনে পান করতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে রয়েছে জনবল সংকট। ফলে সেবা দিয়ে চিকিত্সক ও সেবিকাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সদর উপজেলার আইনুল হক (৪৮), সুরাইয়া বেগম (৪৫), ফারজানাসহ আরো কয়েকজন জানান, সরকার বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের কথা বললেও হাসপাতালে প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন ছাড়া কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। বাকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হয়।
তারা আরো বলেন, "আমরা গরিব মানুষ বলেই সরকারি হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে এসেও টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আমরা চাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।"
কর্মরত সেবিকারা জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসে। কিন্তু সে অনুপাতে এখানে চিকিত্সক কিংবা সেবিকা নেই।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো.নজরুল ইসলাম জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০০রোগী আসে।
এর মধ্যে অর্ধেক আসে গুরুতর সমস্যা নিয়ে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় তাই রোগীদের মেঝে কিংবা বারান্দায় চিকিত্সা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণে ওষুধের সাময়িক সমস্যা হয়েছে। এটি দ্রুত সমাধান করা হবে। এছাড়া নলকূপগুলো সচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এআর





