সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেন। একই দাবিতে পরের দিন, ১৪ জুলাই রোববার, রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশেরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জেলা শহরগুলোতেও শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ১৪ জুলাই সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থার থেকে গণপদযাত্রা শুরু হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ ও ঢাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেবে।

অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানালেন, শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা মামলায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করা হয় অভিযোগ, তারা পুলিশকে ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, ক্ষতি থাকলে কেন অজ্ঞাতনামা মামলা? আমাদের নাম দিয়েই মামলা করতে পারেন।

তবে আন্দোলনের দাবিকে সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করে সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রাস্তা অবরোধ না করে আন্দোলন থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ বলেন, কোনো জানমালের ক্ষতি বা সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মন্তব্য করেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ন্যায্য হলেও সরকার তা অন্যখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে কোটা সংস্কারের মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে তা অসাংবিধানিক হবে।

১৩ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী গণসংযোগের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। একই দিন রাত ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থারের সামনে সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৩৮ সদস্যকে সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সামনে শিক্ষার্থীরা রেললাইনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ঢাকাগামী মধুমতী এক্সপ্রেস আটকে দেন।

এনএইচ