রাজধানীর মিরপুরে আটকেপড়া পাকিস্তানি তথা উর্দুভাষীদের প্রায় ২৫০টি পরিবারকে পূনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবার গুলো। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পেসহ কয়েকটি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় দেশে থাকা ৭০টি ক্যাম্পের প্রায় ৪ লক্ষাধিক উর্দুভাষী উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে। অবিলম্বে এসকল সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন উর্দুভাষী সংখ্যালঘুরা।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়েজিত এক মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে এসকল বিষয় উঠে আসে।
উর্দুভাষীদের সংগঠন ষ্ট্যান্ডেড পাকিস্তানীজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি’র(এসপিজিআরসি)উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদের কারণে মিরপুর ১০, ১১, ১২ নং ক্যাম্প সমূহের ২৫০ টি পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সিটি কর্পোরেশন সড়ক উন্নয়নের নামে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।’
তারা বলেন, ‘২০১৫ সালের এপ্রিলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এসপিজিআরসি’র নেতাদের সাক্ষাতকালে তিনি আটকে পড়া পাকিস্তানীদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সমস্যার কোন সমাধান এখনো হয়নি।’
বক্তারা বলেন, দেশের ১৩ টি জেলায় ৭০ টি ক্যাম্পে প্রায় ৪ লক্ষ উর্দুভাষী বিহারী জনগোষ্ঠীর বসবাস করে আসছে। এদের বেশিরভাগই ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশে জন্মগ্রহন করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয় তারা কেউ একজন বৈধ নাগরিক হিসেবে কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। এরপরও নতুন প্রজন্মের এসব উর্দুভাষীরা বাংলাদেশকেই নিজের দেশ বলে মনে করেন। তারা আর পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাননা।
বিক্ষোভ কর্মসূচী থেকে বক্তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উর্দুভাষীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- মিরপুর-১০,১১ ও ১২ নং সেকশনে উচ্ছেদকৃত উর্দুভাষীদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশে বসবাসরত আটকেপড়া পাকিস্তানীদের ৪৭ বছর ধরে ঝুলন্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও এসপিজিআরসি’র মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা, ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, মিরপুর-১২ নাম্বারে অগ্নিকান্ডে ১০ জন কে পুড়িয়ে হত্যার বিচার করা, এসপিজিআরসি’র নেতাদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা, সারা দেশের ক্যাম্পসমূহে বিদ্যুত-পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ক্যাম্পসমূহের নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি।
এসপিজিআরসি’র সভাপতি আব্দুল জব্বার খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- এসপিজিআরসি’র সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং সংহতি প্রকাশ করেন ইউএসপিওয়াইআরএম এর সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কু, সাধারণ সম্পাদক শাহিদ আলী বাবলু, উর্দুভাষী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি এরশাদ আলম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান খান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে এসপিজিআরসি’র একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
জারিফ





