মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় হামলার ঘটনায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক আবদুল মান্নানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকাল ৫টায় শহরের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে পৌর আওয়ামী লীগের সভায় হামলার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।

জেলা আওয়ামী লীগ দফতর সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ জানান, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুনসুর আহমেদসহ অন্য নেতারা।

এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, এসএম শওকত হোসেন, শেখ শাহজাহান আলি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, শেখ নুরুল হক, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. হারুনার রশীদ প্রমুখ। এছাড়া কয়েক হাজার নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

হারুনার রশীদ বলেন, জেলা যুবলীগ আহবায়ক আবদুল মান্নান বক্তৃতা দিতে মঞ্চে উঠলে পৌর যুবলীগ সভাপতি জহুরুল ইসলাম নান্টু বলেন, তাকেও বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এ সময় বক্তৃতারত মান্নান উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, যুবলীগ তার নেতৃত্বেই থাকবে। শক্তি থাকলে সামনে আসুক তারা। এরপরই মঞ্চে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে যায়।
এ সময় মান্নানের অনুসারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তাদের হাতে ছিল রামদা, চায়নিজ কুড়াল, হকিস্টিক, লোহার রড ও চেইন।

এ হামলায় যুবলীগ নেতা মাহি আলম, তাঁতী লীগ সভাপতি মীর শাহিন, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. সাদিকুর রহমানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

তবে যুবলীগ নেতা আবদুল মান্নান দাবি করেছিলেন, তিনি বক্তব্য দিতে উঠলে তার ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা করে যুবলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এতে যুবলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন অনু, ইয়ারুল ইসলাম, মিলন, তুহিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

যুবলীগ নেতা মাহি আলম জানান, জহুরুল ইসলাম নান্টুর নেতৃত্বে পৌর আওয়ামী লীগের একটি কমিটি সম্প্রতি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি জেলা যুবলীগ আহবায়ক আবদুল মান্নানের বহিষ্কার দাবি করে সম্প্রতি একটি মানববন্ধন করে। তিনি জানান, সোমবার মান্নান জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তার সমর্থক ক্যাডারদের আলোচনা সভায় জড়ো করে। তাদের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। তিনি জানান, আলোচনা চলাকালে সুযোগ বুঝে মান্নানের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরই তারা হামলা করে। এতে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।

অপরদিকে আবদুল মান্নান দাবি করেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সমর্থক ও আত্মীয় স্বজনরাই এ হামলার জন্য দায়ী।