ঝালকাঠির সাবেক পিপি হায়দার হত্যার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ সদস্যকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঝালকাঠি অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল হালিম বুধবার এই আদেশ দেন।

মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন- রাজশাহীর আমিনুল ওরফে আমির হোসেন, বশির হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, বরগুনার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ওরফে তানভীর এবং খুলনার মুরাদ হোসেন।

এদের মধ্যে বিল্লাল ও বশির পলাতক। বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে নামাজ পরে বাসায় ফেরার পথে জেএমবি সদস্যরা হায়দার হোসেনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।

পরদিন তার ছেলে তারিক ইবনে হায়দার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৫৬ জনের সাক্ষ্য নিয়ে বুধবার রায় দিল আদালত।

ঝালকাঠীতে বিচারক হত্যামামলায় শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ জেএমবির শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও হয়েছে।

এ মামলায় সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন সরকারি কৌসলী হায়দার হোসাইন। ২০০৬ সালের ২৯ মে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আহমদ সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দেন।

জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ সাত জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ।

শায়েখ আবদুর রহমানসহ জেএমবির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর হওয়ার ২০ দিন পর ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌসুলি হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে তারিক বিন হায়দার বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন হত্যার ঘটনার প্রায় তিন বছর পর ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি জেএমবির পাঁচ সদস্য বেল্লাল, শাহাদাত, তানভীর, মুরাদ, ছগির ও আমিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাত বছর পরে বুধবার এ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।

জেএ, কেবি