জোর করে রোগীর চিকিৎসা। রোগীর মৃত্যু। বিল বাকি। অত:পর ব্যবসা শুরু। এমন অভিযোগ উঠেছে ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত ৩ জুলাই সেফটি সোমিয়া ও এআরডিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আসলাম নামে এক ব্যক্তি। প্রায় ৪৩ দিন চিকিৎসার পর গত ১৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে টাকা পরিশোধ না করলে লাশ দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
মৃতের স্ত্রী সাবিনা সুলতানা বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রাস্তায় নেমে গেছি। আমি বার বার বলেছি এত টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আপনারা রোগী রিলিজ করে দেন। কিন্তু হাসপাতাল তা করেনি। অসুস্থ মানুষ নিয়ে ব্যবসা শেষ, এখন লাশ নিয়েও ব্যবসা করছেন তারা। যে টাকার বিল করা হয়েছে তা আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়।'
হাসপাতালটির অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘হিসাব-নিকাশ করে পাওনা পরিশোধ করলেই আমরা লাশ দিয়ে দেব।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মানবিকতার খাতিরে হাসপাতালের লাশ দিয়ে দেওয়া উচিত। আমার যদি কিছু করার থাকে, তবে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
হাসপাতালটির গণসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রোগীটি প্রায় ১ মাস যাবত সিসিইউতে ছিলেন। প্রথম ১২ দিন তারা বিল পরিশোধ করেছে। তারপর থেকে আর টাকা দিচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে ও মন্ত্রীর স্ত্রীর রেফারেন্স দিচ্ছিল। কিন্তু এখন মন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’
মৃতদেহ আটকে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা লাশ আটকে রাখি নাই। আমরা উনাদের বলেছি আপনারা টাকা দেওয়ার ওয়াদা করে লাশ নিয়ে যান। তারা তাও করতে চাচ্ছে না।’
মৃত মো. আসলাম রাজধানীর মগবাজার দিলুরোডে থাকতেন। তিনি শেয়ার ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসা করতে গিয়ে পরিবার এখন পথে নামার অবস্থা।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে দেওয়া বিলের কপি থেকে জানা যায়, রোগীর মোট বিল হয়েছে ৩১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৮ টাকা, যার মধ্যে ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৪১০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বিল বাকি রয়েছে ১৯ লাখ ৮২ হাজার ২৭৮ টাকা।
বিলের কপি থেকে আরও জানা যায়, ডাক্তার ফি বাবদ ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭৫ টাকা, সরঞ্জাম ফি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০, ল্যাব ফি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬০, মেডিকেল ডিসপোজেবলস বাবদ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৪, অপারেশন রুম ভাড়া বাবদ ৬ হাজার টাকা, অন্যান্য খরচ ৬০ হাজার ৬৬২, ওষুধ বাবদ ৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০৮, রেডিওলজি বাবদ ৬৫ হাজার ৪০০, রেজিস্টেশন ফি বাবদ ২০০, রুম ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০০, এফ এ- বি রিকোয়েস্ট বাবদ ৬৯০, আউট ডোর খরচ বাবদ ৩৭ হাজার ৩০০ ও Sutures Charg ৮ হাজার ২৭৫ টাকা।
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





