জনপ্রশাসনে ক্যাডার পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় তা পূরণে শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। বিকল্প উপায়ে কোটার জন্য নির্ধারিত পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে।

জানা গেছে,শুধু ৩৪তম বিসিএসে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় প্রায় ৭০০ পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়া ৩৫তম বিসিএসেও প্রায় ৬০৬ পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় এ কোটার শর্ত শিথিল করার জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটার শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার বলতে ওইসব ক্যাডারকে বোঝানো হয়, যেসব ক্যাডারের শিক্ষার সঙ্গে ক্যাডারের মিল রয়েছে। যেমন_ ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক ইত্যাদি।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকার সংরক্ষিত কোটা পূরণে বেশ আন্তরিক; কিন্তু সংরক্ষিত কোটায় জনবল না পাওয়া গেলে তা পূরণে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। কারণ শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ দিতেই সরকারি কর্ম কমিশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে।

যদি কাঙ্ক্ষিত জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে ওই পদগুলো শূন্য থেকে যায়। তখন সরকারি কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। জনসাধারণ স্বাভাবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

সেক্ষেত্রে সংরক্ষিত কোটায় জনবল না পাওয়া গেলে বিকল্প পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যদি প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়, তাহলে শূন্য পদগুলো সহজেই পূরণ সম্ভব হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর পিএসসি থেকে কোটার শর্ত শিথিল করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই অনুরোধপত্রে পিএসসি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানায়, মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য পদ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ থাকায় ৬৭২ পদে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

পিএসসি আরও জানায়, ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তা শিথিল করতে হবে। অর্থাৎ কোটা সংরক্ষণের যে বিধিনিষেধ রয়েছে তা শিথিলের অনুরোধ জানায় পিএসসি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোটা সংরক্ষণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আদেশ-নির্দেশ জারি করা হয়নি। শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পদ সংরক্ষণের জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। এর আগে ৩৩তম বিসিএসে জনবল নিয়োগের সময় সংরক্ষিত কোটার যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় সরকারি কর্ম কমিশন কোটার শর্ত শিথিল করে শূন্য পদগুলো পূরণ করছে।

এরই মধ্যে সরকারি কর্ম কমিশন থেকে ৩৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৮০৩টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের পদের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৮।

পিএসসির হিসাব মতে, শুধু ৩৫তম বিসিএসে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে ৬০৬টি পদ শূন্য থাকছে। এর আগে ৩৪তম বিসিএসেও একই সমস্যার কারণে ৬৭২ পদে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩৫তম বিসিএসে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অপূরণকৃত পদগুলোয় ক্যাডারের সাধারণ প্রার্থীদের জাতীয় মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের থেকে পূরণে করতে হবে। এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

২০১০ সালে জারি করা আদেশে যা বলা হয়েছে : ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ও আধা-সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেশনে সরাসরি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করতে হবে।

যদি সরকারি পদে জনবল নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না যায়, তাহলে ওইসব সাধারণ কোটার জনবল নিয়োগ দেয়া যাবে না। বরং মুক্তিযোদ্ধা কোটার পদগুলো অবশ্যই শূন্য রাখতে হবে। এমনকি বিভাগীয় পদগুলোয় জনবল নিয়োগেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ওই আদেশের আলোকেই বিসিএস নিয়োগেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এসএইচ