কুষ্টিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও যেখানে-সেখানে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী। বিকাল হলেই রাস্তার পাশে ফুটপাতে গড়ে ওঠে অস্থায়ী ইফতারের দোকান। খাবারের ওপর কোনো ঢাকনা নেই। এতে খাবারে যেমন ধুলাবালি পড়ছে, তেমনি পড়ছে মাছি। এছাড়া বাসি খাবারও বিক্রি হচ্ছে টাটকা খাবার হিসাবে। খোলা ও বাসি খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া শহরে বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান বসেছে। এছাড়াও মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে বিকাল গড়ালেই গড়ে ওঠে অসংখ্য ইফতার খাবারের দোকান। নগরীর অলি-গলিতেও গড়ে উঠেছে ইফতার সামগ্রীর দোকান।
শহরের হাতেগোনা কয়েকটা নামিদামি রেস্টুরেন্টে অল্প সংখ্যক মানুষ ছাড়া অধিকাংশ মানুষকে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে ইফতার সামগ্রী কিনতে দেখা গেছে। এ সুযোগে কোনো কোনো দোকানি আগের দিনের থেকে যাওয়া খাবারের সঙ্গে পরের দিনের ইফতার মিলিয়ে টাটকা খাবার হিসেবে বিক্রি করছেন।
তবুও এসব দোকানিদের দম ফেলার সুযোগ নেই। রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষ। খাবার বাসি ও অস্বাস্থ্যকর জেনেও কিনছেন অনেক ক্রেতা। দামে একটু সস্তা হওয়ায় টাকা দিয়ে কিনেও অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার খেতে যেন বাধ্য হচ্ছেন নিন্ম আয়ের মানুষেরা।
এদিকে বিভিন্ন প্রকারের ইফতারি যেমন পিঁয়াজু, বেগুনি, বড়া, চপ, জিলাপিসহ বাহারি রকমের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা রকম রঙ ও বিষাক্ত সব কেমিকেল। পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় সব ইফতার সামগ্রী।
আজমত আলী নামে এক বিক্রেতা জানান, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ইফতারির খাবারে কিছুটা ভেজাল না দিলে লাভ বলতে কিছু থাকে না।
এদিকে ভেজাল খাবারের বিষয়ে ডাক্তার মাহমুদুন নবী জানান, রমজানে নানা রকম রঙ ও কেমিকেল মিশ্রিত খাবার খেলে পেটের অসুখ যেমন-পেটের পীড়া, পেটের গ্যাস, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, আমাশয়, লিভার ও কিডনি বিকলসহ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া সারাদিন অনাহারে থাকার পর তেলে ভাজা খাবার খাওয়াটা মোটেও উচিত নয় বলে তিনি জানান।
জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জানান,ভেজাল ও কেমিকেল মিশ্রিত খেজুর ও খাবার অবশ্যই মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। খুব দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা, ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ





