আলমডাঙ্গা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক কৃষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি শিয়ালমারী গ্রামের মরহুম টগর মালিথার ছেলে। বটিয়াপাড়া গ্রামের রাস্তা থেকে শনিবার সকাল ৯টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কৃষকের নাম আমির হামজা, কিন্তু পুলিশ তার নাম আব্দুল হান্নান (৪৫) রেকর্ড করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশিদ বলেন, ‘শনিবার সকাল ৯টার দিকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিয়ালমারী গ্রামের মরহুম টগর মালিথার ছেলে কৃষক আব্দুল হান্নানের লাশ বটিয়াপাড়া গ্রামের রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছে। নিহতের বিরুদ্ধে পান চুরির অভিযোগ রয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় আব্দুল হান্নানের শরীর থেকে তার ডান হাতের কবজি বিচ্ছন্ন দেখা যায়। মাথার পেছনে ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর দাগ রয়েছে।’
নিহতের আপন চাচাতো ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, ‘পুলিশ আমার ভাইয়ের নাম আব্দুল হান্নান রেকর্ড করলেও তার প্রকৃত নাম আমির হামজা। তাকে তার নিজ বাড়ি শিয়ালমারী থেকে শুক্রবার রাত ১২টার পর ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল এসে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তার লাশ বটিয়াপাড়ার রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমির যদি পান চোর হতো তাহলে তাকে পান-বরজ থেকে কেন ধরা হল না?’
নিহত আমির হামজার স্ত্রী বেদেনা খাতুন দাবি করেন, ‘আমার স্বামী আমির হামজাকে ১০-১২ জনের একটি দল শুক্রবার রাতে ধরে নিয়ে যায়। শনিবার ভোরবেলা আজানের সময় খবর পেয়ে বটিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। স্বামীকে পানি খাওয়াতে ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিরাজুল আমাকে বাধা দেয়। এরপর আমির হামজার মৃত্যু হয়।’
ওসি মামুন আর রশিদ শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বলেন, ‘নিহত আমির হামজার স্ত্রী বেদেনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন। নিহতের সঠিক নাম কী তা তার স্ত্রী মামলা করলেই বোঝা যাবে। তবে সবাই তাকে হাম বলে ডাকত।’
জেআই





