ভোটের পর জেএমবি ও অন্য জঙ্গিদের ধরতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হবে যাতে জঙ্গিরা নতুন করে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তাদের রুখে দেওয়া হবে।

সেই সঙ্গে জঙ্গিদের যাতে কেউ অর্থায়ন করতে না পারে সেজন্য গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে। ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদেরও ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে উপ কমিশনারের কক্ষে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন ধরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চলছে। যেমন রোববার দিনের বেলা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সেখানে যে অস্ত্র পাওয়া গেছে সে রকম অস্ত্র এর আগে জঙ্গিদের কেউ ব্যবহার করেনি। এমনকি বাংলাদেশে এর কোনো ব্যবহার নেই। কোথা থেকে এ অস্ত্র এসেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দিনাজপুরে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যাপারেও তদন্ত হচ্ছে। এছাড়া গতকাল রাতে গাজীপুরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।

সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুজন জঙ্গি নিহতও হয়েছে। এরকম অভিযান ভোটের পর আরো বড় আকারে চালানো হবে। সেটি সারা দেশব্যাপী হবে এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন করে অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেএমবি দেশব্যাপী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে অর্থ সহায়তা ও মদদ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে।

দেশীয় ও আন্তার্জাতিক উভয়ভাবেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পুলিশ তা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের অনেকগুলো ঘটনাতেই পুলিশ সফলতা অর্জন করেছে।

দেশবাসী দেখেছে, মিরপুরের বাসায় কিভাবে গোয়েন্দারা একটি শ্বাসরুদ্ধকর সফল অভিযান শেষ করেছে। সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি। সেদিন ওই অপারেশন করতে না পারলে দেশে একটি বড় হামলা হতে পারতো। সেজন্য তারা প্রস্তুতও ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘মিরপুরের ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রিমান্ডে যে তথ্য দিয়েছে সে অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত তাদের অস্ত্র ও বোমা তৈরির কারখানাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বর্তমানে জঙ্গিবাদের একটি ট্রেন চলছে। এ যাত্রা সহজে থামবার না হলেও গোয়েন্দারা তা থামাতে যথেষ্টভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আগামীতে জঙ্গিরা যাতে দেশে কোনো ধরণের নাশকতা চালাতে না পারে সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। এদের আস্তানাগুলো খুঁজে বের করতে পারলে বড় কোনো নাশকতা আর চালাতে পারবে না। তখন তারা বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগোপ্তা হামলার চেষ্টা চালাতে পারে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে।’

জঙ্গিদের নতুন করে অনুপ্রেরণা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হরকাতুল জিহাদ মাঠে ময়দানে না থাকায় জেএমবির কিছু সদস্য মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তাদের কোনো সাংগাঠনিক কাঠামো নেই। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত হয়ে তারা কাজ করার চেষ্টা করছে। তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।এটা পুলিশের সতর্ক থাকারই একটা অংশ।

দেশে শিয়া মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় হামলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। আশপাশের দেশ এরকম শান্তিতে নেই।

তাই বাংলাদেশ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে থাকতে না পারে সেজন্য জঙ্গি হামলার মতো অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু। এখানে উগ্রবাদ কোনোভাবেই ঠাঁই পাবে না।’

এমকে