বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১২ কোটি এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
রোববার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের ৭৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়।”
২০২১ সাল নাগাদ দেশের সব মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর আশাও করেন প্রতিমন্ত্রী।
বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন গড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে চাহিদা এর চেয়ে বেশি হওয়ায় লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান নসরুল।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা ১ হাজার ৭৬ বিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক উৎপাদন ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।
বর্তমানে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ১৯২ টাকা বলে জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যও সংসদে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের আমদানি মূল্য ৫০ দশমিক ৬৭ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৬৮ টাকা; কেরোসিনের আমদানি মূল্য ৫১ দশমিক শূন্য ৪ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৬৮ টাকা; অকটেনের আমদানি মূল্য ৬৮ দশমিক ৬৯ টাকা, বিক্রয় মূল্য ৯৯ টাকা; ফার্নেস অয়েলের আমদানি মূল্য ৩৮ দশমিক ৪৪ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৬০ টাকা এবং জেট এ-১ এর আমদানি মূল্য ৫০ দশমিক ৬১ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৬৭ টাকা।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের বেশকিছু পদক্ষেপের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “গ্যাসের উৎপাদান ও সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২১ সাল নাগাদ ১৮টি উন্নয়ন কূপ, ১১টি ওয়ার্কওভার কূপ এবং ১৬টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো এলাকাতেই আবাসিক খাতে পাইপলাইনে গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।”
গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমতুল্য এলএনজি আমদানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আশা করা যায়, ২০১৭ সাল নাগাদ এই এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে।”
এএইচ





