চাঁদার দাবিতে গোপালগঞ্জে রমজান শেখ (৫০) নামে এক কৃষককে দুইদিন আটকে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করেছে পুলিশ। রমজানকে জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি টুঙ্গিপাড়া থানার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের সামচু শেখের ছেলে।

রমজানের শরীরের প্রতিটি জায়গায় পুলিশের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের প্রচন্ড আঘাত নিয়ে এখন যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছের রমজান। মাঝে মাঝে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে রমজান।

রমজান বলেন-'গত ২২ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে জমির কাজ শেষ করে বাড়িতে যাই। গোসল করে বেলা ৩টার দিকে মাছ-তরকারি কেনার জন্য বাঁশবাড়ীয়া বাজারে যাই। কিছুক্ষণ পর টুঙ্পিাড়া থানার এসআই ইকরাম ও বাশবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আসলামসহ ৪ থেকে ৫ জন পুলিশ এসে আমাকে ঘিরে ধরে। তারা আমার চোখ বেধে হাতে হাতকড়া পরিয়ে মারতে-মারতে বাঁশবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

তারা আমার হাত উপর দিকে দিয়ে চোখ বেধে মোটা লাঠি দিয়ে শরীরের প্রতিটি জায়গায় ইচ্ছামত মারতে থাকে। তারা বলতে থাকে ডাকাতির মালামাল আর মুখোশ কোথায় বল। আমি বলি স্যার আমি ডাকাত না আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু তারা তা আমলে নেয় না। পরে ৩০ হাজার টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানায় পুলিশ।

আমার স্ত্রী রুশনি ৫ হাজার টাকা ধার করে এনে পুলিশকে দেয়। পুলিশ টাকা পেয়ে নির্যাতনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। নির্যাতনের এ খবর কর্মরত বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বুধবার বিকালে রমজান শেখকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা, ২৫ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ