পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বেড়ে কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চলীয় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
রবিবার সকালে জেলার কুতুবদিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া, মগনামা, শাহপরীরদ্বীপ, মহেশখালীসহ জেলা শহরের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। প্লাবিত এলাকার ফসলি জমি, চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
কুতুবদিয়া উপজেলার ১নং উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌলা বলেন, ‘উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চর ধুরুং এলাকায় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে পূর্ণিমায় জোয়ারের পানি ঢুকে নয়াপাড়া, ফজনিপাড়া, আনু সিকদারপাড়া, মনু সিকদারপাড়া, জমিবাপেরপাড়া, পেইল্যারপাড়া, চুল্লারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে প্রায় ২৫ হেক্টর ফসলী জমি। অন্তত ৩৫টি পুকুর ডুবে গেছে। এতে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে দ্বীপের অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দারা।
এছাড়া কুতুবদিয়া দ্বীপের তাবলেরচর, আলী আকবর ডেইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি।
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের বেড়িবাঁধ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। ভংঘুর এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে দ্বীপের সিংহভাগ এলাকা। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলী জমি ও মানুষের বসতভিটে। জালিয়াপাড়া, দ্বীপের উত্তরাং ও পূর্বাংশের লোকজন বেশি পানিবন্দি হয়ে আছে।
মহেশখালী উপজেলার স্থানীয় সংবাদকর্মী আমিনুল হক বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে দুপুর ১২টায় দ্বীপের মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কুতুবজোমের ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন খাবার সামগ্রিও। ৭ গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, ‘পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নেরও কয়েকটি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সাগরে পানির উচ্চতা বাড়ায় এ প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এতে করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।’
কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, পূর্ণিমার জোয়ারের পানি ঢুকে ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, কাঙ্গালীপাড়া, ফদনার ডেইল, নাজিরার টেকসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়ে বিশাল শুটকিপল্লীও। পানিবন্দি ৪০ হাজার বাসিন্দা সেহরি ও ইফতার নিয়ে ভোগান্তির আশংকা করছেন।
কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর হুমায়রা বেগম বলেন, ওয়ার্ডের শিল্প এলাকা, উত্তর নুনিয়াছড়া, টুইট্যার মাথা, পানির কূপ এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। প্লাবিত এলাকার প্রায় সব বসতভিটে পানিতে ভিজে গেছে। এতে রাতযাপনসহ সাংসারিক কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান সরওয়ার কামাল বলেন, ‘তিনি প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার কোন কোন স্থান প্লাবিত হয়েছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।
ঢাকা, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





