টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কুঠিবয়ড়া-জগৎপুরা বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যমুনার পেটে চলে যাওয়ায় চারটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে পানিবৃদ্ধির পর যমুনার পানি আবার কমতে শুরু করেছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে প্রমত্তা যমুনার পেটে চলে গেছে ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরও। স্থানীয়দের আকুতি ও পত্র-পত্রিকায় বিস্তর লেখালেখি সত্বেও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টির অভাবে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে।

বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি সিঅ্যান্ডবি পাকা সড়ক, স্থানান্তরিত দ্বিতল ভবন শোভিত অর্জুনা মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা ও একটি কলেজসহ নানা স্থাপনা, ঘরবাড়ি, গাছপালা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

জানাগেছে, হঠাৎ যমুনায় পানি বৃদ্ধির সময়ই ভাঙন শুরু হয়, পানি কমতে থাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক ভাঙন শুরু হলে এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বিস্তর লেখালেখি হয়।

স্থানীয়দের আকুতি সত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় বাঁধটি ভেঙ্গে অর্জুনা, গাবসারা, নিকরাইল, গোবিন্দাসী এ চারটি ইউনিয়নের চর অর্জুনা, চুকাইনগর, খানুবাড়ি,

কুকাদাইর, ভালকুটিয়া, কোনাবাড়ি, পাটিতাপাড়া, বানতাইন, মাটিকাটা, বাসুদেবকোল, চরচুন্দনী, ভদ্রশিমুল, গোবিন্দপুর, বোরার বয়ড়া, মেঘার পোটল গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি হারাতে হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকায় পানীয় জল ও খাবার সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। শিশুদের মাঝে পানি বাহিত রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে।

এলাকাবাসী অভিযোগ, গত বন্যার শেষ দিকে অর্জুনা-কুঠিবয়ড়া-জগৎপুরা বেড়ি বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় সে সময় শেষরক্ষা হয়। বার বার আবেদন-নিবেদনের পরও শুকনো মৌসুমে ওই বাঁধটি রক্ষায় কোন প্রকার সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

তৎকালীন ইউএন হেলালুজ্জামান সরকারের পক্ষ থেকে মাট ফেলার জন্য ৫০০টি প্লাষ্টিক ব্যাগ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে তা ফেরত নেয়া হয়। ভাঙন ঠেকাতে দিশেহারা অর্জুনা, চর অর্জুনা ও চুকাইনগর গ্রামবাসী স্ব-উদ্যোগে নিজেদের পয়সায় বাঁশ সংগ্রহ করে পানির গতিপথ পরিবর্তনে প্রচেষ্টা চালায়। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন কবলিত বাঁধের উজানে পর পর ৬টি বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করেও বাঁধ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেন, জনপ্রতিনিধি কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কেউ যথাসময়ে বাঁধটি দেখতে পর্যন্ত যাননি বরং বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন।

তবে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাজাহান সিরাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরএম/ এআর