ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিদর্শনে এসে বলেছেন, ‘বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। দুই কন্ট্রোলরুমে দুই পুলিশ অফিসার সার্বক্ষণিক তদারক করছেন।’

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি বইমেলার সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে আসেন। এ সময় তিনি পুরো মেলাপ্রাঙ্গণের ভেতর-বাহির পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি আছে কি না সেটা দেখার জন্য আমি এসেছি। পুরো মেলাপ্রাঙ্গণে মোট ৭টি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। দুরবীন দিয়ে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। এছাড়া সিসি ক্যামেরায় সব ভিডিও ফুটেজে প্রত্যেক দর্শনার্থীর আগমন-নির্গমন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

মেলায় প্রবেশের সময় সব ধরনের তল্লাশি করা হচ্ছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এবার প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ বেশি হওয়ায় মেলায় ঢুকতে ও বের হতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আমাদের বিভিন্ন টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুট প্যাট্রোল টিম, মটর প্যাট্রোল টিম।’

গতবছর বইমেলায় ২৬তম দিনে বিজ্ঞানলেখক অভিজিৎ রায় হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান বলেন, ‘গতবছরের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার আলোকে এবার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আর যেন কোনো দুঃখজনক ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি।’

সিসি টিভি ক্যামেরাগুলোকে ‘হাই রেজ্যুলেশন ক্যামেরা’ উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি নিজে এর দায়িত্বে আছি। হয়তো এগুলোকে আরো ইমপ্রুভ করা যেত, সেটা যেকোনো বিষয়ের ক্ষেত্রেই করা যায়।’ এ সময় তিনি জনসাধারণকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

মেলায় স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরার মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সব সিসি টিভি ক্যামেরা আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। সব ক্যামেরায় নাইট ভিশন অপশন আছে, যেগুলো রাতেও স্পষ্ট দেখা যায়।’

ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজারের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘অতীতে আমরা সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করেই অনেক হত্যারহস্য উন্মোচন করেছি এবং হত্যাকারীদের ধরেছি।’

দেশের সম্মান রক্ষার্থে জনসাধারণকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

ওএফ