শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে আলাদা অধিদফতর দাবি করেছে মহিলা আইনজীবী সমিতি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত কন্যাশিশু দিবস-২০১৫ উপলক্ষে "কন্যাশিশুর নিরাপদ পরিবেশ, সমৃদ্ধ করবে আগামীর বাংলাদেশ” এবার এমন স্লোগানকে সামনে রেখে এক সেমিনারে সংগঠনটি এ দাবি করে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেন বলেন, শিশুকন্যাদের সামাজিক পরিবর্তনের জন্য একটি জায়গা প্রয়োজন। শিশুকন্যারা মর্যাদার অধিকারী, তাকে শিশুর মর্যাদা দিতে হবে।

তিনি বলেন, যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হবে, তাকে নিয়ে প্রশাসন একটি জনসমক্ষে সভা করবে। প্রশাসন ওই সভায় প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রনে বিয়ে দেবেন। তার সমস্ত দেখভাল প্রশাসন নেবেন। তাহলেই ধর্ষণের ঘটনা কমে আসবে। সমাজকে সমান ভাবে দেখতে হবে, না হলে আমরা বার বার পরাজিত হবো।

বক্তারা বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠির ৪৫ শতাংশ শিশু। এরমধ্যে ৪৮ শতাংশ কন্যাশিশু। কিন্তু অধিকাংশ কন্যাশিশুরাই পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান ধারণার কারণে নানাভাবে নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে। তাছাড়া শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে হরহামেশা। এমনকি ধর্ষণের পর মেরে ফেলা, এসিড নিক্ষেপ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষা, পুষ্টি ও তথ্যপ্রযুক্তির অধিকার থেকে।

তারা বলেন, কন্যাশিশুদের নির্যাতন, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহে শিকার হওয়ায় মামলা হলেও তা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়না। তাই শিশুহ্ত্যা ও নির্যাতনের মামলা দ্রুত বিচার আইনে এনে অপরাধী‌দেরে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে কন্যাশিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের বিশেষ বিশেষ এলকায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত।

এ সময় জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য ন্যায়পাল নিয়োগ, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা, বাল্যবিবাহ আইন অতিদ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করতে দাবি জানান।

একই সঙ্গে সমিতি কয়েকটি অঙ্গীকার করে। এগুলোর মধ্যে কণ্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্যাতন ও বৈষম্য দুর করি, কণ্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, বাল্যবিবাহ বন্ধ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি সুযোগ সৃষ্টির অঙ্গীকার।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিনা রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জোহর, নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

এমএ